কখনো পুলিশ ক্যাডার, কখনো প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা—এমন নানা ভুয়া পরিচয় দিয়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দিনাজপুরে মোশাররফ হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে দিনাজপুর শহরের কালুর মোড় এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আটক মোশাররফ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের নওখৈর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোশাররফ নিজেকে কখনো ৪৬তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডার, কখনো ৪৭তম বিসিএসের পররাষ্ট্র ক্যাডার এবং কখনো ৪৯তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিতেন। দামি ব্র্যান্ডের পোশাক পরে ছবি তুলে নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করতেন, যাতে তাঁর পরিচয় বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।
এই ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে তিনি বিভিন্ন জেলার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে নানা অজুহাতে অর্থ হাতিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, মোশাররফ আটকের খবর পেয়ে রাঙামাটি থেকে প্রতারণার শিকার দাবি করা এক তরুণী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিনাজপুরে আসেন। একইভাবে নীলফামারী থেকেও এক তরুণীর অভিভাবক দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে মোশাররফের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণার অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ছাত্রাবাসের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের দাবি, এসব লেনদেনের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ছিল।
রাঙামাটি থেকে আসা এক ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, কয়েক মাস আগে মোবাইল ফোনে তাঁর সঙ্গে মোশাররফের পরিচয় হয়। গত মার্চে মোশাররফ তাঁকে জানান, তিনি ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। পরে পূর্বের একটি সম্পর্কের জটিলতা সমাধানের কথা বলে বিভিন্ন সময়ে ওই তরুণীর কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা নেন। টাকা ফেরতের নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি অর্থ ফেরত না দিয়ে বিষয়টি ভুলে যেতে বলেন। পরে ওই তরুণী কক্সবাজার থানায় প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরনবী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোশাররফ বিভিন্ন নারীর সঙ্গে মিথ্যা পরিচয়ে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কক্সবাজার থানায় প্রতারণার একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া নীলফামারী সদর উপজেলায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়ে বিয়ে করার অভিযোগে আরেকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ওসি আরও জানান, মোশাররফের বিরুদ্ধে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।



