শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একটি গণকবরস্থান নির্মাণকে কেন্দ্র করে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সমাজসেবী ও শিল্পপতি শাহাজাহান মুন্সির উদ্যোগে নির্মাণাধীন ‘জব্বার পল্লী’ গণকবরস্থানের কাজ শুরুর পর প্রতিপক্ষের বাধার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, শরীয়তপুরের সখিপুর ইউনিয়নের মুন্সিকান্দি এলাকায় ‘জব্বার পল্লী’ নামে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন শাহাজাহান মুন্সি। এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী পূর্বে সেখানে হাসপাতাল, মাদরাসা ও একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কবরস্থানের জায়গা সংকট থাকায় স্থানীয়দের অনুরোধে নতুন একটি গণকবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, নিজস্ব অর্থায়নে জমি ক্রয় করে সেখানে গণকবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। তবে কাজ শুরুর পর স্থানীয় আফসার মুন্সি, আক্তার মুন্সি ও তাদের সমর্থকরা জমির মালিকানা দাবি করে নির্মাণকাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
রবিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলাকালে কিছু ব্যক্তি শ্রমিকদের কাজে বাধা দিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমাধান হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
জব্বার পল্লীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বৈধভাবে জমি ক্রয় করে এলাকাবাসীর সুবিধার্থে গণকবরস্থান নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, মোট ৫০ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ২০ শতাংশ জমি সম্প্রতি সালিশের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের সম্মতিতে সমঝোতা হলেও বর্তমানে প্রতিপক্ষ সেই সিদ্ধান্ত মানছে না এবং কাজ বন্ধের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম মুন্সি বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গণকবরস্থানের অভাব রয়েছে। মানুষের সুবিধার জন্য নেওয়া উদ্যোগে বাধা দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি বিষয়টির দ্রুত সমাধান কামনা করেন।
আরেক বাসিন্দা রাসেল আহমেদ বলেন, এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে বাধা না দিয়ে বিরোধ থাকলে আইনগতভাবে সমাধান করা উচিত।
অভিযুক্ত আক্তার মুন্সি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের মালিকানাধীন জমিতে নির্মাণকাজ করা হচ্ছে বলেই তারা বাধা দিচ্ছেন। জমির সঠিক সীমানা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুহিদুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের আশা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দ্রুত গণকবরস্থান নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে।




