ভোলা–৪ (চরফ্যাশন–মনপুরা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থীর গণসংযোগ ও প্রচারণা কার্যক্রমে কালো মাস্ক পরিহিত একদল যুবকের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পথসভা, বাজারকেন্দ্রিক গণসংযোগ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রার্থীর পেছনে ও আশপাশে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করা এসব মাস্কধারী যুবকদের পরিচয় জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন অনেকেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ বিষয়ে নানা মন্তব্য ও প্রশ্ন দেখা যায়। কেউ কেউ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কালো মাস্ক পরিহিত এসব যুবক কোনো অচেনা বা রহস্যময় গোষ্ঠীর সদস্য নন। তারা সবাই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল সদস্য ও কর্মী, যারা জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং প্রচারণা কর্মসূচির শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীর নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় গণসংযোগের সময় বিশৃঙ্খলা এড়ানো, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতেই ছাত্রশিবিরের কর্মীরা স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কালো মাস্ক ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো।
এ বিষয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতারা জানান, এটি কোনোভাবেই আইনবহির্ভূত বা গোপন কোনো কার্যক্রম নয়। সম্পূর্ণভাবে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেই এই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। তারা বলেন, “আমাদের প্রার্থী নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছেন। সেই পরিবেশ বজায় রাখতেই ছাত্রশিবিরের ভাইয়েরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।”
স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মাস্কধারী যুবকদের আচরণ ছিল শালীন ও নিয়ন্ত্রিত। তারা কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেননি কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা দেননি। বরং জনসমাগমের সময় প্রার্থীর চারপাশে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে সাধারণ মানুষের একটি অংশ প্রথমে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর অনেকেই এটিকে স্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “নির্বাচনের সময় বড় নেতাদের সঙ্গে নিরাপত্তা থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তারা যদি শৃঙ্খলার মধ্যে থাকে, তাহলে সমস্যা দেখি না।”
সব মিলিয়ে ভোলা–৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থীর সঙ্গে কালো মাস্ক পরিহিতদের উপস্থিতি নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছিল, এখন তা অনেকটাই পরিষ্কার। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ছাত্রশিবিরের স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা টিম ছাড়া আর কেউ নন এবং তাদের মূল লক্ষ্য হলো শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করা।




