সাতক্ষীরার প্রান্তিক ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সাতক্ষীরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। পরিদর্শনকালে দায়িত্ব অবহেলা, কর্মস্থলে দীর্ঘ অনুপস্থিতি ও চুরির ঘটনায় দুই চিকিৎসক ও এক নাইটগার্ডকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে সারাদেশে শিগগিরই বিশেষ ব্যবস্থায় ৫ হাজার চিকিৎসক ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কথা জানান মন্ত্রী।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই প্রথমে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাজির হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনের শুরুতেই তিনি হাসপাতালের রান্নাঘরে গিয়ে রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবারের মান পরীক্ষা করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসাসেবার মান, পরিচ্ছন্নতা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, ওষুধের মেয়াদ, হাসপাতালের অবকাঠামো, চিকিৎসক ও নার্স সংকটসহ সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালে নানা অনিয়মের বিষয়ে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেন মন্ত্রী। অতি সম্প্রতি হাসপাতালটি থেকে ৯টি এসির আউটডোর চুরির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে নাইটগার্ড মোস্তফাকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত ও বিভাগীয় মামলা রুজুর নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. নানজীবা ত্বন্বীকে বরখাস্ত করে নতুন চিকিৎসক পদায়নের নির্দেশ দেন।
তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাতক্ষীরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানেও চিকিৎসাসেবার মান ও চিকিৎসকদের উপস্থিতি তদারকি করেন তিনি। এ সময় দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অপরাধে মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক সোহানা সেলিমকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় সাধারণ মানুষ চিকিৎসক সংকটের কথা তুলে ধরলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন। জনগণের প্রতি আমাদের বড় দায়বদ্ধতা রয়েছে। অতীতের অজুহাত দিয়ে লাভ নেই, আমরা সারা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। যা আছে তা দিয়েই দরিদ্র মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এসব হাসপাতালে আধুনিক ল্যাব, নারী-পুরুষের আলাদা ফিজিওথেরাপি সেন্টার, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার এবং অত্যাধুনিক এক্স-রে সুবিধাসহ সার্বিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে।




