সৈয়দপুরে মেলার আড়ালে ‘মেগা লটারি’: টিকিট বিক্রেতা হাতেনাতে আটক, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে গ্রামীণ ও কুটির শিল্প মেলার আড়ালে পরিচালিত বিতর্কিত ‘মেগা লটারি’র টিকিট বিক্রির সময় রনি চন্দ্র (২২) নামে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে জনমতের তীব্র বিরোধিতা ও প্রশাসনের নজরদারির মধ্যেও কীভাবে চলছে এই লটারি কার্যক্রম?

শনিবার (২৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাদখানা এলাকায় অবৈধ লটারির টিকিট বিক্রির সময় রনি চন্দ্রকে টিকিটের বাক্সসহ আটক করেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে তাকে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক রনি কিশোরগঞ্জ উপজেলার দেবীর বাজার এলাকার শ্রী দীনেশ চন্দ্রের ছেলে।

পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জ থানার ওসির কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অপরাধ স্বীকার করায় রনি চন্দ্রকে ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থদণ্ড করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর সেনানিবাস সংলগ্ন ফায়ার পার্ক এলাকায় মাসব্যাপী চলমান গ্রামীণ ও কুটির শিল্প মেলায় ১০ টাকার প্রবেশ টিকিটের মাধ্যমে ৩১টি ইভেন্টে ‘মেগা লটারি’র প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের আয়োজন চলছে। টিকিট বিক্রেতা আটক হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, এই লটারি কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। মানববন্ধন, বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও বিষয়টি বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়। তবে সব আপত্তি উপেক্ষা করে পুনরায় লটারি চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আরও তীব্র হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত বছরও একইভাবে গ্রামীণ মেলার নামে লটারি পরিচালিত হয়েছিল। তখন অনেক নিম্নআয়ের মানুষ বড় পুরস্কারের আশায় গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি এমনকি জমিজমা বিক্রি করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে স্থানীয় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে সেই কার্যক্রম বন্ধ হয় বলে দাবি করেন তারা।

স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী রায়হান আহমেদ বলেন,
“একদিকে তীব্র লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ, অন্যদিকে মেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতিতে মানুষ যখন সহায়তার অপেক্ষায়, নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া এবং এইচএসসি পরীক্ষা চলছে, তখন এমন বিতর্কিত লটারি চালুর যৌক্তিকতা কোথায়?”

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সমাজের একটি প্রভাবশালী মহল ব্যক্তিস্বার্থে এই লটারি কার্যক্রম চালু রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লটারি বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে তা জানতে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সচেতন নাগরিকদের দাবি, অবৈধ লটারির টিকিট বিক্রির ঘটনায় একজনকে দণ্ডিত করার মধ্যেই প্রশাসনের দায়িত্ব শেষ হতে পারে না। পুরো লটারি কার্যক্রমের বৈধতা, আয়োজকদের ভূমিকা এবং কারা এর পেছনে রয়েছে সেসব বিষয়ও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় প্রতিবছরের মতো এবারও অসংখ্য মানুষ প্রতারণা ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন