হাওরের বিশাল জলরাশি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অঞ্চলকে দেশের দ্বিতীয় প্রধান পর্যটন কেন্দ্র বা ‘দ্বিতীয় কক্সবাজার’ হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছে ও পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।
ঐতিহাসিক ও উপন্যাস খ্যাত ‘মলুয়া’র স্থান হিসেবে পরিচিত ইটনা উপজেলার আড়াইল্যা গ্রাম সংলগ্ন হাওর পরিদর্শনে গিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি তাঁর এ ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
পরিদর্শনের সময় এমপি ফজলুর রহমান জানান, আড়াইল্যা গ্রামের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত এই হাওর এলাকাটি প্রায় ১৪ কিলোমিটার বিস্তৃত। সার্বিকভাবে উত্তর-দক্ষিণে ১৪ কিলোমিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ২০ কিলোমিটার পরিধির এই বিশাল জলরাশি বর্তমানে ইটনা ও অষ্টগ্রামের সবচেয়ে বড় হাওর অঞ্চল।
তিনি উল্লেখ করেন, যদি এই হাওর এলাকাকে সঠিক ও সুপরিকল্পিতভাবে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবে তা দ্বিতীয় কক্সবাজারের মতো মর্যাদা লাভ করবে। এর ফলে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী ও পর্যটক এখানে আসবেন।
প্রতিদিনের দুঃখ-কষ্টের মাঝেও পর্যটকরা এই বিশাল জলরাশি ও উন্মুক্ত বাতাসের স্পর্শে একখণ্ড স্বস্তি ও আনন্দের নিঃশ্বাস নিতে পারবেন। এছাড়া, মিঠা পানির তাজা ও তাজা মাছ এবং হাওরের বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হবে।
পর্যটন সম্ভাবনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে তিনি অসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন বলে জানান। একই সাথে দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে হাওর অঞ্চলের এই টেকসই পর্যটন প্রসারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বিশ্বাস করেন যে, পুরো ভাটি অঞ্চলে এত সুন্দর ও প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ হাওর খুব কমই রয়েছে। সঠিক পদক্ষেপ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ইটনা ও আড়াইল্যার এই হাওর অঞ্চল বাংলাদেশের পর্যটন মানচিত্রে একটি অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হবে। পর্যটকরা বৃক্ষকে খুব বেশি পছন্দ করে। ফাইল বন্দী হয়ে থাকা বৃক্ষ রোপনের মহাপরিকল্পনাটিও বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিকাশ ঘটবে তিনি মনে করেন।




