পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ২০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৭) ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাইদুল খানসহ (৩২) এক ব্যক্তিকে আসামি করে কলাপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত রবিবার (২৬ জুলাই) মধ্যরাতে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের নাচনাপাড়া কলোনী এলাকায় এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সাইদুল খান কলাপাড়া শহরের এতিমখানা রোড এলাকার বাসিন্দা। গত কয়েকদিন আগে তিনি টিয়াখালী ইউনিয়নের নাচনাপাড়া কলোনী এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শিশুটি বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে লম্পট সাইদুল ওই শিশুকে ২০ টাকার নোটের লোভ দেখিয়ে তার শ্বশুর ও ভুক্তভোগী শিশুর ঘরের মধ্যবর্তী একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় সে। পরে ঘটনা কাউকে না বলার শর্তে তাকে ওই ২০ টাকা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
শিশুটির হাতে ২০ টাকা দেখে এবং তার আচরণে সন্দেহ হলে মা তাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় অবুঝ শিশুটি তার মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। স্থানীয়রা বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে ধামাচাপা দেওয়ার বা মিমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া শিশুটির মা কলাপাড়া থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কলাপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃইলিয়াস তালুকদার জানান, “খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্ত সাইদুলকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। খুব দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষার (মেডিকেল রিপোর্ট) জন্য শিশুটিকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল অবিলম্বে লম্পট সাইদুলকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।




