কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের চলমান ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পর্যালোচনায় মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্যাকবলিত এলাকায় আগামী তিন মাস ঋণ আদায় কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টায় চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষ ‘মোহনা’-য় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার। সভা সঞ্চালনা করেন একলাবের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মাহাবুব ভুইয়া।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল আমিন, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সভায় বন্যাকবলিত এলাকায় পরিচালিত ত্রাণ বিতরণ, পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা। তারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী, নগদ সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা প্রদানের তথ্য উপস্থাপন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্যাকবলিত এলাকায় আগামী তিন মাস কোনো এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। এ নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় মা স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র-এনএসএস-এর সমন্বয়কারী জানান, বন্যাদুর্গত এলাকার গর্ভবতী নারীদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে ব্র্যাকের এরিয়া ম্যানেজার নন্দন তালুকদার জানান, দুর্যোগকালীন সময়ে সংস্থাটি ৮৭০ জন সদস্যকে মোট ৮০ লাখ ৪২ হাজার টাকা সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত দিয়েছে। এছাড়া ৬৩৮ জন সদস্যকে প্রায় ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভার শেষ পর্যায়ে উপস্থিত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী সকল এনজিও প্রতিনিধি সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে আগামী তিন মাস বন্যাকবলিত এলাকায় ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থগিত রাখার আশ্বাস দেন।
সভায় দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।



