দীর্ঘ প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে মামলা, কারাবাস, আত্মগোপন, নির্ঘুম রাত ও নানামুখী প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও রাজনীতি থেকে সরে যাননি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান (মনির) হাওলাদার। রাজনৈতিক জীবনের নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর এখন তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের মানুষের পাশে থেকে উন্নয়নমূলক কাজ করা এবং ইউনিয়নটিকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করা।
মনির হাওলাদার জানান, ১৯৮৯ সালে হাইস্কুলে অধ্যয়নরত অবস্থায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ১৯৯১ সালে তিনি গলাচিপা ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন। পরে ১৯৯৫ সালে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য এবং ২০০০ সালে একই ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে বিএনপির মূল রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হন এবং ২০২২ সালে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক জীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে জননিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা দায়ের হয়। ১৯৯৭ সালে একটি রাজনৈতিক মামলায় তাকে কারাবরণ করতে হয়। এরপর ২০০৭-০৮ সালে তার নামে ১২টি, ২০১৪ সালে আরও তিনটি এবং ২০১৮ সালে একটি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়।
মনির হাওলাদারের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনও আদর্শের সঙ্গে আপস করেননি। তিনি বলেন, মামলা আর গ্রেপ্তারের ভয়ে বছরের পর বছর নিজের ঘরে ঘুমাতে পারিনি। কখনও ঝোপঝাড়ে, কখনও বিলের পাড়ে, আবার কখনও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হয়েছে। আত্মগোপনে থেকেও মনে সবসময় আতঙ্ক কাজ করত—এই বুঝি পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যাবে। কত নির্ঘুম রাত কেটেছে, তার হিসাব নেই।
তিনি বলেন, এত ত্যাগ, কষ্ট আর সংগ্রামের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পাওয়া। আজ সেই সুযোগ এসেছে। আমি চাই বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের হাত ধরে, তাদের সহযোগিতা নিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে।
বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নকে দীর্ঘদিন অবহেলিত উল্লেখ করে মনির হাওলাদার বলেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এ ইউনিয়নের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে এলাকা। জনগণ যদি আমাকে সুযোগ ও আস্থা দেয়, তাহলে বড়বাইশদিয়াকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
তিনি আরও বলেন, জনগণের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাকেই তিনি অগ্রাধিকার দিতে চান। তার বিশ্বাস, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বড়বাইশদিয়াকে একটি উন্নত, আধুনিক ও আদর্শ ইউনিয়নে পরিণত করা সম্ভব।




