দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার’- এমপি মিলন

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট খুবই মানবিক বিষয়।
অসহায় মানুষের ঘর নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণে সরকারের এই সহায়তা তাদের দুর্ভোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনা।
আমরা চাই, সরকারি সহায়তা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে যাক। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী এসব পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে।
পবা উপজেলা পরিষদ চত্বরে মঙ্গলবার  দুপুরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও অসহায় ১৫টি পরিবারের মধ্যে ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন
রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।
তিনি বলেন, ‘দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অসহায় মানুষের ঘর মেরামত ও পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।
কোনো পরিবার যেন দুর্যোগের কারণে দীর্ঘদিন মানবেতর জীবনযাপন না করে, সে বিষয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। মানুষের দুর্ভোগ কমিয়ে তাদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীন।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও অসহায় পরিবারগুলোর জন্য সরকারের মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণের অর্থ দেওয়া হচ্ছে।
যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এ সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।
এ সহায়তার মাধ্যমে পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত করে কিছুটা স্বস্তিতে বসবাস করতে পারবে।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পবা উপজেলার কাটাখালী পৌরসভার হাজরাপুকুর এলাকার শিউলী বেগম।
তিনি বলেন, ‘এক ছেলে আর স্বামীকে নিয়ে রেললাইনের পাশে সরকারি জায়গায় থাকি। স্বামী কৃষিকাজ করেন। কোনো রকমে সংসার চলে। এই সামান্য আয় দিয়ে ঘরের টিন পরিবর্তন করা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের।
সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ফুটো টিন দিয়ে পানি ঢুকে সব ভিজে যায়। কত রাত যে বৃষ্টির পানিতে কষ্ট করে কাটিয়েছি, তার কোনো হিসাব নেই।’
শিউলী বলেন, ‘আজ দুই বান্ডিল টিন আর ছয় হাজার টাকা পেয়েছি।
এবার ঘরের টিনগুলো ঠিক করতে পারব। বৃষ্টি হলে আর ঘরের ভেতর পানি ঢুকবে না। আমার অনেক উপকার হলো। সরকারের প্রতি আমি অনেক খুশি ও কৃতজ্ঞ।’
সহায়তা পাওয়া হড়গ্রাম ইউনিয়নের আলীগঞ্জ এলাকার এরফান আলী বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে নতুন টিন দিয়ে ঘর করেছিলেন।
এত বছর পর পুরোনো টিনগুলো জং ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে অনেক কষ্ট করে সংসার চালান তিনি।
একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এখন স্ত্রীকে নিয়ে ওই ঘরেই থাকেন।
দুই বান্ডিল টিন ও ছয় হাজার টাকা পাওয়ায় এবার ঘরটি নতুন করে ঠিক করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের নলখোলা গ্রামের নুরভানু বেগম বলেন, ‘এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছি, আরেক মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্ট করে ঘরে থাকি।
টাকার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে ঘরের পুরোনো টিন পরিবর্তন করতে পারিনি। সরকার ঢেউটিন ও টাকা দেওয়ায় এবার ঘরের টিনগুলো নতুন করে লাগাতে পারব। এই সহায়তা পেয়ে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে।’
এই বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা  মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও অসহায় ১৫টি পরিবারের মধ্যে মোট ৩০ বান্ডিল ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।
প্রতিটি বান্ডিলের মূল্য তিন হাজার টাকা হিসেবে গৃহনির্মাণের জন্য মোট ৯০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সরকারি এই সহায়তা পেয়ে শিউলী বেগমের মতো ১৫টি পরিবারের মানুষ এখন ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত করে নতুন করে স্বস্তিতে বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

‎ব্রাহ্মণপাড়ায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার করে জনদূর্ভোগ লাঘব করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আরিফুল ইসলাম

‎কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের কল্পবাস ব্র্যাক সংলগ্ন ডিপ

​লামায় পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে, দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগী নারী

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী মৌজায় পৈত্রিক ও নিজস্ব খরিদা সম্পত্তি