মুকুল কম, তবু ভালো ফলনের আশায় পুঠিয়ার আম বাগানে ব্যস্ত চাষিরা

উত্তরবঙ্গের আমের রাজধানী খ্যাত রাজশাহী অঞ্চলে চলতি মৌসুমে আমের মুকুল তুলনামূলক কম হলেও ভালো ফলনের আশায় বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। বিশেষ করে পুঠিয়া উপজেলা-এর বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন আমচাষিরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, অনেক গাছে ইতোমধ্যে গুটি ধরেছে। চাষিরা নিয়মিত সেচ, সার প্রয়োগ ও কীটনাশক ছিটানোর মাধ্যমে গাছের যত্ন নিচ্ছেন। মুকুল আসার পর থেকেই তারা বিশেষ পরিচর্যা করছেন, যাতে ফল ঝরে না পড়ে এবং আকারে বড় হয়।

চাষিরা জানান, এবার আমের হোপার পোকার আক্রমণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় গত বছরের চেয়ে বেশি যত্ন নিতে হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশাবাদ রয়েছে তাদের মধ্যে।

বানেশ্বর হাট-এর আমচাষি হাজী মামুন বলেন, “গত বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিতে আম ঝরে পড়েছিল। পাশাপাশি আমের সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমে যায়, ফলে আমরা ক্ষতির মুখে পড়ি। তবে এবার আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। বাজারে দাম ঠিক থাকলে লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারব, ইনশাআল্লাহ।”

আরেক চাষি ইমাম হোসেন বলেন, “আমাদের প্রধান আয়ের উৎস এই আম। তাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া এবং বাজারে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বছর এখন পর্যন্ত আবহাওয়া আম চাষের জন্য অনুকূল রয়েছে। বড় ধরনের ঝড়-বৃষ্টি হয়নি। সঠিক সময়ে পরিচর্যা ও রোগবালাই দমন করা গেলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, বানেশ্বর হাটের আম ব্যবসায়ী ও ইজারাদার রাসেল সরকার জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে হাটে প্রায় দুই হাজার টনের বেশি আম বেচাকেনা হতে পারে বলে তারা আশাবাদী।

আমের মৌসুম ঘনিয়ে আসায় ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীরা বাগান পরিদর্শন শুরু করেছেন। অনেকেই আগাম বাগান কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে চাষিরা বলছেন, ভালো ফলনের পাশাপাশি ন্যায্য দাম নিশ্চিত হলেই তাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

আসন্ন ২০২৬-২৭ বাজেটে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাজেট বৃদ্দির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম, ৪ জুন ২০২৬: বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা, জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ