হাঁটুসমান কাদা আর ভাঙাচোরা পথের কারণে কার্যত বন্দি হয়ে পড়েছে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বাঁশতলা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ। বর্ষা এলেই কাদায় ডুবে যায় স্থানীয়দের একমাত্র চলাচলের পথ। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ৩০টিরও বেশি পরিবারের মানুষকে।
বাঁশতলা ৪০ মিটার সেতুর পাশের রেকর্ডভুক্ত প্রায় সাড়ে ৭০০ ফুট দীর্ঘ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কাদার সাগরে পরিণত হয়। ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন স্কুলগামী শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ।
স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি নির্মাণের পর উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার করা হয়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। মোটরসাইকেল, ভ্যান কিংবা জরুরি যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, অনেক সময় পায়ে হেঁটেও পার হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর শেখ বলেন, “বছরের পর বছর এই কষ্ট করছি। বৃষ্টি হলেই রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। অসুস্থ মানুষ বের করতে খুব সমস্যা হয়। আমরা দ্রুত রাস্তা সংস্কার চাই।”
সড়কের এই দুরবস্থার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে শিশুদের শিক্ষাজীবনে। বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র পথটি অচল হয়ে পড়ায় অনেক শিক্ষার্থী টানা দুই মাস নিয়মিত স্কুলে যেতে পারেনি বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে পিছলে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। সন্তানদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে তাদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ রেখেছেন।
শিক্ষার্থী মায়েসা আক্তার বলে, “রাস্তা খুব খারাপ। কাদা থাকায় স্কুলে যেতে পারি না। অনেক দিন ধরে ক্লাস মিস হয়েছে।”
শুধু শিক্ষাই নয়, এই সড়কের কারণে স্বাস্থ্যসেবাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। তাদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে মোংলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মতিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
স্থানীয়দের দাবি, একটি সড়ক শুধু চলাচলের পথ নয়; এটি একটি এলাকার শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই আশ্বাস নয়, দ্রুত সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।




