মঙ্গলবার,২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সেতাবগঞ্জ চিনিকলসহ ৪৪ শিল্প-কলকারখানা বে-রাষ্ট্রীয়করণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

দিনাজপুর জেলার একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান সেতাবগঞ্জ চিনিকলসহ দেশের ৪৪টি শিল্প-কলকারখানা বে-রাষ্ট্রীয়করণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টায় সেতাবগঞ্জ চিনিকল পুনঃচালনা আন্দোলন পরিষদ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির শুরুতে সেতাবগঞ্জ চিনিকলের প্রধান ফটক থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে সেতাবগঞ্জ পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার সেতাবগঞ্জ চিনিকলসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ৬টি চালু চিনিকল বন্ধ ঘোষণা করে। তাদের অভিযোগ, চিনিকলগুলোর বিপুল সম্পদ ও মূল্যবান জমি দীর্ঘমেয়াদে লিজ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ ঘোষণার পর থেকেই শ্রমিক-কর্মচারী ও এলাকাবাসী আন্দোলন শুরু করেন।
বক্তারা আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিষয়টি জনস্বার্থবিরোধী হিসেবে বিবেচনা করে ৬টি চিনিকল আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা ও শিল্প উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয় এবং পরবর্তীতে বন্ধ চিনিকলগুলো আধুনিকায়ন ও লাভজনকভাবে পরিচালনার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে শিল্প মন্ত্রণালয় ৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখের এক স্মারকের মাধ্যমে পর্যাপ্ত আখ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তিন ধাপে ৬টি চিনিকলের কার্যক্রম পুনরায় চালুর লক্ষ্যে পূর্বের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে।
এ সময় বক্তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, বর্তমানে কেন দেশের ৪৪টি শিল্প-কলকারখানা বে-রাষ্ট্রীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং কার ইন্ধনে হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তারা দাবি করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সেতাবগঞ্জ চিনিকল কোনোভাবেই বে-রাষ্ট্রীয়করণ করতে দেওয়া হবে না। শ্রমিক-কর্মচারী ও এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে এ সিদ্ধান্ত প্রতিহত করবে।”
সেতাবগঞ্জ চিনিকল পুনঃচালনা আন্দোলন পরিষদের আহ্বায়ক মো. বদরুজ্জোহা বাপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখপাত্র জুলাই যোদ্ধা মো. ফয়সাল মোস্তাক, শ্রমিক দল নেতা মো. শহিদুল ইসলাম, মইনুল ইসলাম স্বাধীন, মহিলা দল নেত্রী রাশেদা খানম, জামায়াত নেতা মো. নুর আলম এবং স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা খন্দকার লিমন সরকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন