গত রোববার মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত ওয়াল্টজ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনীতিকে আরেকটা সুযোগ দিচ্ছেন, যাতে শান্তি আলোচনাকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়।
এমন একটি সময় তিনি এমন মন্তব্য করলেন যখন মার্কিন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমে আসার কারণ ইরানের ওপর হামলা বন্ধের আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।
এদিকে, মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে টানা দুই রাত হামলা না চালানোয় ইরানও ‘প্রতিশোধমূলক’ পাল্টা হামলা স্থগিত রেখেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।
রোববার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধে ইরান আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে কেবল ‘হামলার জবাবে পাল্টা হামলা’ চালানোর সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।
”যুক্তরাষ্ট্র গত দুই রাতে যেহেতু হামলা বন্ধ রেখেছে, সেজন্য আমরা আমাদের সামরিক অভিযান স্থগিত রেখেছি,” বলেন জেনারেল আকরামিনিয়া।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেটি টানা প্রায় চল্লিশ দিন চলে। এরপর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা শুরু করে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
দফায় দফায় বৈঠকের এক পর্যায়ে গত জুন মাসে দু’পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সপ্তাহ দুয়েক আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়।
এর মধ্যে গত সপ্তাহে হামলা আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দেয় মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাতে সম্প্রতি বোমারু বিমান ব্যবহার করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করে মার্কিন গণমাধ্যম এক্সিওস।
অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। আইআরজিসি’র ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনা হতাহতের ঘটনাও ঘটে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গত শুক্রবার অনেকটা আকস্মিকভাবেই ইরানের ওপর হামলা বন্ধের সিদ্ধান্ত জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি কি আপাতত যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও খারাপের দিকে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মি. ওয়াল্টজ আরেকটি মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসিকে বলেছেন, “আমি মোটেও অত দূরে যাব না। প্রেসিডেন্ট সব বিকল্পই খোলা রাখছেন।”
এদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যে আপাতত ইরানের ওপর সামরিক হামলা বৃদ্ধি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটির পেছনের কারণ আসলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসা।
খবরটিতে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন যে, ইরানের ওপর হামলা আরও বৃদ্ধি করা হলে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ‘বিপজ্জনক পর্যায়ে’ নেমে আসতে পারে।
এছাড়া পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরান যেভাবে ড্রোন হামলা অব্যাহত চালাচ্ছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্রদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলার শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল বলে মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে সার্বিক বিবেচনায় ট্রাম্প হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।



