জাপানখ্যাত আগর বাগানে দর্শনার্থীদের ঢল

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ঘেরা গজনী এলাকার জাপানখ্যাত আগর বাগান বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রতিদিন দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য এই স্থানটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসু মানুষ, ফলে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গজনী এলাকার সবুজ পাহাড় ও ঘন বনানীর মাঝে অবস্থিত আগর বাগানটি দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ, সারিবদ্ধ আগরগাছ এবং নিরিবিলি পরিবেশের কারণে এটি দেশজুড়ে ‘জাপানখ্যাত আগর বাগান’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।

তবে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বন বিভাগ আগর বাগানে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও বাস্তবে সেই নির্দেশনা পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শত শত দর্শনার্থী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বাগানে প্রবেশ করছেন। অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও ঘোরাফেরা করছেন, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আগর বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ আসছেন। তবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে দর্শনার্থীদের প্রবেশ অব্যাহত থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাগানের জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা এস বি তানভীর আহমেদ ইমন বলেন, “আগর বাগানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মূল উদ্দেশ্য হলো এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবুও অনেক মানুষ নির্দেশনা অমান্য করে প্রবেশ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সচেতন মহলের মতে, আগর বাগানকে ঘিরে পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অপরিকল্পিতভাবে দর্শনার্থীদের প্রবেশের পরিবর্তে একটি সুষ্ঠু ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে ভবিষ্যতে পর্যটকদের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় স্থানটি উন্মুক্ত করার দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই অনন্য নিদর্শনকে টিকিয়ে রাখতে বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন