নাটোরের বড়াইগ্রাম থানাধীন জোনাইল ইউনিয়নের চৌমহান এলাকায় তথাকথিত “জিনের বাদশা”, “আধ্যাত্মিক চিকিৎসক” পরিচয়ে প্রতারকদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের চৌকশ একটা টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বড়াইগ্রাম থানাধীন জোনাইল ইউনিয়নের চৌমহান এলাকায় একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদেরকে তথাকথিত “জিনের বাদশা”, “আধ্যাত্মিক চিকিৎসক” ও “অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী” পরিচয়ে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করে সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে দেশে ও প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে আসছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়।
প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নাটোর জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার, জনাব মোহাম্মদ শরীফুর হক মহোদয়ের নির্দেশে গত ০৮ জুন, ২০২৬ খ্রি. বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ এবং নাটোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে প্রতারণামূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
জব্দকৃত মালামালের মধ্যে ভিডিও ধারণ ও প্রচারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস, তথাকথিত অলৌকিক কার্যক্রম প্রদর্শনের বিভিন্ন উপকরণ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত রয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান আছে বলেও জানা যায় । একই সঙ্গে যারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের তথ্য-প্রমাণসহ থানায় যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে নাটোর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে।
বাংলাদেশ পুলিশ সব ধরনের প্রতারণা, সাইবার প্রতারণা ও ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। জনগণের জানমাল রক্ষা এবং অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ, নাটোর সর্বদা তৎপর রয়েছে বলেও সাংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়।
এ ধরণের প্রতারক চক্রের প্রলোভনে পড়ে আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থ্রক্র সম্মানিত সকল নাগরিককে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।। জেলা পুলিশ, নাটোর কর্তৃক প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানানো হয়।




