ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় আপন চাচীকে নিয়ে ভাতিজা পালিয়ে যাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোবরাপাড়া গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। এ নিয়ে বর্তমানে এলাকাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও নিন্দার ঝড় বইছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোবরাপাড়া গ্রামের সানজেদুর রহমান (ছল্টু)-এর স্ত্রী রুমানা ইসলামের (২৮) সাথে তার আপন ভাসুরের ছেলে হাসান আলীর দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। এই অনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে পরিবারের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। এর আগে গত ঈদুল ফিতরের সময়ও চাচীকে নিয়ে পালিয়ে যায় প্রেমিক ভাতিজা। সে সময় পরিবারের লোকজন তাদের ফিরিয়ে এনে স্থানীয় মাতব্বরদের মাধ্যমে সালিশ-বৈঠক করে বিষয়টি সুরাহা করেন এবং তারা পুনরায় ঘর-সংসার শুরু করে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ৯ জুন দ্বিতীয়বারের মতো তারা আবারও বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। নিখোঁজের পর সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে গৃহবধূর স্বামী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। ওই দম্পতির ৫ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
ভুক্তভোগী স্বামী সানজেদুর রহমান ছল্টু কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “প্রায় ৮ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে আমাদের বিয়ে হয়। আমাদের একটি ছোট্ট কন্যাসন্তান রয়েছে। ভাতিজা হাসান আমার স্ত্রীকে ‘মা’ বলে ডাকত। কিন্তু আমি বাড়িতে না থাকার সুবাদে সে আমার স্ত্রীর সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানতে পেরে হাসানকে নিষেধ করলে সে আমাকে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দিত।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৯ জুন সুযোগ বুঝে তার স্ত্রী রুমানা ঘরে থাকা নগদ ৩ লক্ষ টাকা এবং তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ভাতিজার হাত ধরে পালিয়ে গেছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে গোবরাপাড়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অলিগলিতে এটিই এখন প্রধান মুখরোচক খবরে পরিণত হয়েছে। পবিত্র পারিবারিক সম্পর্কের এমন অবক্ষয়ে ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল।




