পটুয়াখালীর গলাচিপায় রাবনাবাদ নদীর ওপর বহুল প্রতীক্ষিত গলাচিপা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি করতে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক।
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন গলাচিপা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার কামরুল ইসলাম। এ সময় তারা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ভূমি অফিস থেকে বরাদ্দ দেওয়া ৪ একর জমির ব্যবহার, নির্মাণসামগ্রী ও ভারী যন্ত্রপাতি সংরক্ষণের প্রস্তুতি এবং বরাদ্দকৃত জমির বাইরে কোনো সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করা হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
এ ছাড়া ইউএনও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্সের প্রকল্প কার্যালয় এবং নির্মাণশ্রমিকদের অস্থায়ী আবাসন নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং মূল নির্মাণকাজ কবে নাগাদ পুরোদমে শুরু হবে, সে বিষয়ে জানতে চান।
এ সময় এম এম বিল্ডার্সের রাবনাবাদ সেতু প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রলয় সরকার জানান, বর্তমানে প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজ চলমান রয়েছে। ক্যাম্প স্থাপন, নির্মাণসামগ্রী সংরক্ষণ, ভারী যন্ত্রপাতি স্থাপনসহ অন্যান্য প্রস্তুতির কাজ আগামী মাসের মধ্যে শেষ হবে। এরপরই মূল সেতু নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) আওতায় বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২১ কোটি ২৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। শুরুতে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। পরবর্তীতে বিস্তারিত নকশা, নদীশাসন, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং অন্যান্য প্রকৌশলগত কাজ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রস্তাবিত সেতুর দৈর্ঘ্য ৮৮২ দশমিক ৮১ মিটার (প্রায় ০.৮৮৩ কিলোমিটার) এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৬ মিটার। নদীর স্বাভাবিক পানির স্তর থেকে সেতুর উচ্চতা হবে ৬০ ফুট, যাতে বড় নৌযান নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। সেতুটিতে মোট ১৮টি পিলার নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ৫টি পিলার থাকবে নদীর মধ্যে এবং ১৩টি দুই তীরে। সেতুর এক প্রান্ত হবে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় এবং অপর প্রান্ত হবে হরিদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাবনাবাদের মতো প্রশস্ত ও স্রোতস্বিনী নদীর ওপর সেতু নির্মাণে শুধু মূল কাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়; নদীশাসনের কাজও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রকল্পে নদীতীর সংরক্ষণ, পিলারের চারপাশে ক্ষয়রোধ এবং নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
সেতুটি নির্মিত হলে গলাচিপা, দশমিনা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের ফেরিনির্ভর যাতায়াতের অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। জরুরি সেবা ও দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রমও হবে আরও দ্রুত ও কার্যকর।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে এবং এ সেতু এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




