বৃক্ষমেলা বন্ধ, দুশ্চিন্তায় কুপন ক্রেতারা

অনুমতির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে দর্শনায় চলমান বৃক্ষ ও পরিবেশ মেলা বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তবে বন্ধের ঘোষণার পরও কিছু সময় মেলার কার্যক্রম চলতে থাকায় পরে রাতে ফের অভিযান চালিয়ে সম্পূর্ণভাবে মেলা বন্ধ করা হয়। এতে কুপন ক্রেতা ও সাধারণ দর্শনার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।

শনিবার বিকেলে মাইকিং করে মেলা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে রাত ৯টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দর্শনা পৌর প্রশাসক শাহীন আলম মেলা পরিদর্শন করে সব স্টল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে রোববার সকাল ১০টার মধ্যে সকল স্টল অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন জানান, মেলা আয়োজনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকটি শর্ত ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আয়োজকরা সেগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালন করেননি। বিশেষ করে মেলায় অনুমোদনবিহীন লটারি পরিচালনা, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা, চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন সৃষ্টি, ছোটখাটো অপ্রীতিকর ঘটনা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থ, শিক্ষার পরিবেশ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেলার অনুমতির শর্ত ভঙ্গের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপও বিবেচনায় রয়েছে।

এদিকে মেলা বন্ধের খবরে কুপন ক্রেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই জানান, লটারি ও ড্র-এর আশায় তারা কুপন কিনেছিলেন, কিন্তু হঠাৎ মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের টাকা ফেরত বা ড্র নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে অনেক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পরীক্ষার সময় উচ্চ শব্দ ও অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্বস্তি পাবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পর দর্শনায় আয়োজিত এ বৃক্ষ ও পরিবেশ মেলা স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা, কৃষিপণ্য এবং নানা ধরনের বাণিজ্যিক স্টল ছিল। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মেলাটি স্থানীয়দের বিনোদন ও কেনাকাটার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগেই মেলার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন।

 

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন