কালিগঞ্জে এক যুগেও মেলেনি বিচার: জোড়া খুনের স্মরণে স্বজনদের ক্ষোভ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান ও রুহুল আমীন গাজীর ১৩তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হয়েছে। তবে স্মরণানুষ্ঠানের আবেগঘন পরিবেশের মাঝেও জোরালোভাবে উঠেছে ২০১৩ সালের ওই জোড়া হত্যাকান্ডের বিচার না হওয়ার অভিযোগ। স্বজনদের দাবি, দীর্ঘ একযুগ পার হলেও বিচার হয়নি জোড়াখুনের। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রæয়ারি) বিকাল ৪টায় কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের হলরুমে পবিত্র কুরআন বিতরণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি উপজেলার রঘুনাথপুর জামে মসজিদে রুহুল আমীন গাজীর স্মরণে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। কালিগঞ্জের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কালিগঞ্জ পূর্ব শাখার সভাপতি শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং পশ্চিম শাখার সেক্রেটারি হাফেজ সা’দ বিন জাফরের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা শাখার সেক্রেটারি নাজমুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল ওহাব সিদ্দিকীসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে শহীদ শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামানের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয় এবং সিঙ্গেল ডিজিটধারী শিক্ষার্থীদের মাঝে কুরআন শরীফ বিতরণ করা হয়। কালিগঞ্জে শহীদ শেখ আরিফুজ্জামানের পিতা আফতাব উদ্দীন বলেন-২০১৩ সালের ১৬ জুলাই ৬ রমজান অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়ের প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কালিগঞ্জ উপজেলার পাউখালি এলাকায় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কালিগঞ্জ উপজেলার তৎকালিন ইউএনও তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী ওসি আলী আযম খান (৭৬৫) সহ যৌথ বাহেনি উপস্থিত ছিল। এসময় কালিগঞ্জ থানার কনস্টেবল আলমঙ্গীর (২১১) চায়না রাইফেলে ১০ রাউন্ড গুলি ও কনস্টেবল সংগ্রাম (৭১৪) ৮ রাউন্ড গুলি করে আমার ছেলে শেখ আরিফুজ্জামান ও রুহুল আমীন গাজীকে প্রকাশে গুলি করে। পরে থানায় মামলা করতে গেলে মামলা না নিয়ে উল্টো আমার নামে বাদী হয়ে এস আই সেকেন্দার আলী ও কোরবান আলী আমার নামে মামলা করে। বিষয়টি নিয়ে তৎকালিন কালিগঞ্জ সার্কেলের এএসপি তাজুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে আমাদের তার অফিস থেকে বের করে দেন। সেখান থেকে একরকম একযুগ ধরে পালিয়ে বেঁচে আছি। তারপর থেকে আজঅবধি কোন বিচার পাইনি। অন্যদিকে একই দিন উপজেলার রঘুনাথপুর জামে মসজিদে বাদ আছর জামায়াত কর্মী শহীদ রুহুল আমিন গাজীর স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুর রউফসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার বাজার গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং চার ভাই-বোনের মধ্যে বড় সন্তান। তাঁর পিতা শেখ আফতাব উদ্দীন ও মাতা মোছা: রাশিদা খাতুন। শহীদ শেখ মোস্তফা আরিফুজ্জামান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের ১৭৬ তম শহীদ। তবে স্মরণানুষ্ঠানের আবেগঘন পরিবেশের মাঝেও উঠে এসেছে ২০১৩ সালের ঘটনার বিচার না পাওয়ার অভিযোগ। পরিবারের দাবি-দীর্ঘ একযুগ পার হলেও তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ ১৩ বছর পরও মামলার অগ্রগতি বা বিচারিক ফলাফল সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। পরিবারের একটাই দাবি-ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা হোক এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।#  

Read More »

কালিগঞ্জে বেওয়ারিশ ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার নাজিমগঞ্জ-শ্যামনগর রুটে ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেট’?

  সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় বেওয়ারিশ অবস্থায় ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধারের ঘটনায় কেবল একটি অভিযানের খবর নয়-বরং উঠে এসেছে একটি সম্ভাব্য অবৈধ সার সরবরাহ চক্রের অস্তিত্বের প্রশ্ন। বৈধ কাগজপত্রহীন সার, অজ্ঞাত ক্রেতা-বিক্রেতা এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এই ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার ওয়াসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে কালিগঞ্জ-শ্যামনগর সড়কের রতনপুর বাজার এলাকা থেকে ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়। সারগুলো মালিকবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকলেও আশ্চর্যের বিষয়-এত বড় চালানের কোনো মালিক সামনে আসেনি। উদ্ধারকৃত সারগুলোর সঙ্গে কোনো বৈধ মেমো পাওয়া যায়নি। এমনকি সার ক্রেতার নাম-ঠিকানা বা পরিবহনের বৈধ কাগজপত্রও অনুপস্থিত। ফলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসার। তবে প্রশ্ন উঠছে-৩০ বস্তা ইউরিয়া সার কি হঠাৎ আকাশ থেকে পড়ে গেল? যদি চোরাই না হয়, তাহলে সারটি কার? আর যদি বৈধ হয়, তবে মেমো ও মালিকানা গোপন কেন? একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নাজিমগঞ্জ বাজার থেকে সারগুলো কেনা হয়েছিল। অভিযানের খবর পেয়ে বিপদের আঁচ পেয়ে সার ক্রেতা পালিয়ে যায়। এই তথ্য সত্য হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে-নাজিমগঞ্জ বাজারের কোন সার ডিলার বা ব্যবসায়ী এই অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত? রতনপুর বাজারের মাতৃভাণ্ডার দোকানের মালিক সুকুমার খাঁ ও পলাশ খাঁ দাবি করেন, তাদের দোকান থেকে ৪০ বস্তা সার খড়মি গ্রামের মজিদ নামে এক ব্যক্তি কিনেছেন। ইউরিয়া সার আমাদের নয়। তবে তার এই সার লেনদেনের বিষয়টি ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউরিয়া সারটি নাজিমগঞ্জের এক সার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এসেছে। তবে সেই ব্যবসায়ীর নাম বা পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি-যা অনুসন্ধানকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে সার পরিবহনের সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে আলাদা মেমো দেখানো হয়। ফলে একই সার বারবার কাগজ বদলে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে। এই পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি তাদের। উদ্ধারকৃত ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসে সংরক্ষিত আছে। তবে এখনো খতিয়ে দেখা হয়নি-এই সার কোনো সরকারি ডিলারের গোডাউন থেকে কম-বেশি হয়েছে কি না, সরকারি বরাদ্দের সঙ্গে বাস্তব মজুদের কোনো অমিল আছে কি না। প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে সারটি কোন ডিলারের কাছ থেকে এসেছে? নাজিমগঞ্জ-রতনপুর রুটে কি একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয়? কৃষি অফিস ও সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলোর নজরদারিতে ঘাটতি আছে কি? কে দেবে তার উত্তর? কে বলবে সার

Read More »

শ্যামনগরে যৌথবাহিনীর অভিযান: অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী আটক

  সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় যৌথবাহিনীর (সেনাবাহিনী ও বিজিবি) অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ মোঃ হাবিবুর রহমান (পিতা: লিয়াকত হোসেন) নামে এক সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যামনগর উপজেলার নিদয়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অংশ নেয় ৩৭ বীর কালিগঞ্জ ক্যাম্প ও ১৭ বিজিবির সমন্বয়ে একটি দল। যৌথবাহিনী জানায়, আটক ব্যক্তির বসতবাড়ির সামনে থাকা ধানের গোলা থেকে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র এবং ঘরের ভেতর থেকে রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি ৩৭ /বীর কালিগঞ্জ ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন নাহিদুল হক খান (এস বি পি) নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন আজ সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে আটককৃত আসামিকে উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জব্দকৃত মালামাল দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ১টি রামদা ৩টি এসএস পাইপ ১টি। এব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধিন। তবে স্থানীয়রা জানান এই অভিযান অব্যাহত থাকলে জনসাধারণ এলাকায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবে। তাদের বিশ্বাস সেনাবাহিনী ধারাবাহিকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করবে।  

Read More »