কুয়াকাটা অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের অভিযোগে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন

কুয়াকাটা মেরিন ড্রাইভ সড়কের কাজে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের অভিযোগে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন।

 অভিযানে বালি উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।

রবিবার মধ্যরাতে কলাপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেকের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এ অভিযান।

স্থানীয়দের জন সাধারনের মতে, কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে লেম্বুরবন পর্যন্ত নির্মাণাধীন মেরিন ড্রাইভ সড়কের কাজে ব্যবহারের জন্য খাজুরা গ্রামের জোমাদ্দার বাড়ি-সংলগ্ন ১৮ ঘর এলাকায় সমুদ্রসৈকত থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছিল। স্থানীয়রা বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে বালি উত্তোলনের চেষ্টা করা হয় বলেও রয়েছে অভিযোগ।

অভিযানের সময় বালি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কোনো শ্রমিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে থাকা অবৈধ বালি উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়, যাতে পুনরায় এ ধরনের কার্যক্রম চালানো না যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যে স্থান থেকে বালি উত্তোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল, সেখানে শহর রক্ষা বাঁধের সিমেন্টের ব্লকের কয়েকটি অংশ সরে গেছে আগেই। ওই এলাকায় আবার বালি উত্তোলন করা হলে বাঁধের ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে এবং জলোচ্ছ্বাস বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কুয়াকাটা শহর বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, ‘আমরা কাজের সঙ্গে জড়িত লোকজনকে সমুদ্র থেকে বালি উত্তোলন না করার জন্য নিষেধ করেছিলাম। তখন তারা আমাদের বলেন, ‘প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের ম্যানেজ করেই কাজ করছি, আপনারা কিছুই করতে পারবেন না।’ এমন বক্তব্যে আমরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছি।’

স্থানীয়দের দাবি, মেরিন ড্রাইভ সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা হোক, তবে কোনোভাবেই সমুদ্রসৈকত ধ্বংস করে বা অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের মাধ্যমে নয়। তাদের মতে, উন্নয়নের নামে উপকূলীয় পরিবেশ ও শহর রক্ষা বাঁধকে ঝুঁকির মুখে ফেলা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তারা আরও জানান, এর আগেও একইভাবে সমুদ্রসৈকত থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে সড়ক নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেই কার্যক্রম বন্ধ হয়। নতুন করে একই অভিযোগ ওঠায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুসাইন আমির মন্তব্য করেন, ‘এমনিতেই কুয়াকাটার শহর রক্ষা বাঁধের অন্তত তিনটি স্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ঝুঁকি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ প্রকাশ ও সচেতনতা তৈরির কাজ করছি। এর মধ্যে আবার সমুদ্রসৈকত থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান মিরাজ উল্লেখ করেন, ‘উপকূল রক্ষায় নির্মিত তীররক্ষা বাঁধের পাশ থেকে বালি উত্তোলন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।’

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, ‘অনিয়মের সংবাদ পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করি। তবে সেখানে বালি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কাউকে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে থাকা অবৈধ বালি উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়েছে। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপকূলীয় পরিবেশ ও সমুদ্রসৈকত রক্ষায় অবৈধ বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে।’

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন