ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার এক পিকআপ চালককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক মো. সোয়েব মুন্সিকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে| নির্মম হত্যার ঘটনায় নিহতের মা ও স্ত্রীর কান্নাজড়িত কণ্ঠে শোয়েবের বিচার চাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে এই সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় যুবদল|
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে|
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জনবিরোধি নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক মো. সোয়েব মুন্সিকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে| জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি ইতিমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্য়কর করেছেন|
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, বহিস্কৃতদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়দায়িত্ব দল নিবে না| যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সাথে সাংগঠনিক সর্ম্পক না রাখার জন্য নির্দেশনা ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনয়ি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে|
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১১টার দিকে গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ডে বসা ছিলেন স্থানীয় আজিজুল ইসলামের ছেলে পিক আপ চালক মানিক মিয়া (৪৫)| এ সময় তাকে অস্ত্রের মুখে উঠিয়ে সতিষা এলাকায় নিয়ে যান স্থানীয় যুবদল নেতা সোয়েব মুন্সি| পরে ওই সড়কের পাশেই একটি খোলা জায়গায় রড ও দাঁড়ালো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে| এক পর্যায়ে ওই যুবদল নেতা সোয়েব নিহত মানিকের স্ত্রীকে সিএনজি পাঠিয়ে ডেকে এনে স্বামী মানিক মিয়া মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকায় লোকজন পিঠিয়েছে মর্মে কথা রেকর্ড করে নিজ মোবাইলে| এক পর্যায়ে একটি সিএনজি করে তার (অভিযুক্ত) লোকজনকে সাথে দিয়ে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়, সেখানে কোন রেকর্ড না করেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়| সেখানে জরুরী বিভাগের খাতায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে বলে লিপিবদ্ধ করে| পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে মারা যায় মানিক| এ ঘটনার পর থেকে এক ধরনের ভীতিকর অবস্থায় রয়েছে নিহতের পরিবার|




