স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সরকারের রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকা সরকারের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। ‘সবার আগে বাংলাদেশ, ক্ষমতার আগে জনগণ’—এই নীতি অনুসরণ করেই সরকার কাজ করছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা মাঠে শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ১০০ ঘর নির্মাণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শুধু ঘরবাড়ি হারানো পরিবার নয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও গবাদি পশুপালকদের জন্যও সহায়তা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। যাদের বীজতলা, চারা বা কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষয়ক্ষতির জরিপ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার সব সময় জনগণের পাশে থাকবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো স্লুইসগেটের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে না। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরাই স্লুইসগেট পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে প্রয়োজনের সময় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য স্লুইসগেট খুলে দেওয়া যায়।
তিনি বলেন, বন্যা প্রতিরোধে কোনো ‘মহৌষধ’ নেই। নদী ও সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস প্রাকৃতিক বাস্তবতা। তবে এসব দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় শক্তিশালী ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় স্লুইসগেট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া কামনা করে বলেন, সরকার জনবান্ধব ও দরিদ্রবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয় এবং সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায়।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং বিতরণের জন্য প্রস্তুত রাখা ত্রাণসামগ্রী পরিদর্শন করেন। পরে পেকুয়া উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।




