মঙ্গলবার,২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভোলায় ডাকাত দলের সরদার নুরে আলম গ্রেপ্তার

ভোলার বোরহানউদ্দিনে একটি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডাকাত দলের সরদার মো. নুরে আলমকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার নুরে আলম ওই ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী ও নেতৃত্বদানকারী।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোলা জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, ভোলা জেলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, পিপিএম (বার)-এর দিকনির্দেশনায় এবং বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে ডাকাতি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার সাহার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভোররাত আনুমানিক ৪টা ১৩ মিনিটের দিকে বোরহানউদ্দিন থানাধীন কাচিয়া ইউনিয়নের চকঢোষ ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় মো. জালাল আহমেদ (৭৩) নামের এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৭ জনের একটি ডাকাত দল অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে তারা পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, রুপার চেইন ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতরা ওই বাড়ি থেকে কানের দুল তিন জোড়া, ১৮ আনা স্বর্ণ, স্বর্ণের চুড়ি ৬ আনা, রুপার চেইন ৮ আনা এবং নগদ ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বোরহানউদ্দিন থানায় এফআইআর নং-১৬ এবং জিআর নং-২৭৪-এর মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় রুজু করা হয়।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, পিপিএম (বার)-এর দিকনির্দেশনায় এবং বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জের সক্রিয় নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার সাহা ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বোরহানউদ্দিন থানাধীন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পদ্মমনসা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ডাকাত দলের অন্যতম সদস্য মো. আরিফ (২২) ও মো. রহিমকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে মো. আরিফ ও মো. রহিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী ও নেতৃত্বদানকারী হিসেবে মো. নুরে আলমের নাম উঠে আসে।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে নুরে আলমের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর বোরহানউদ্দিন থানাধীন কাচিয়া ইউনিয়নের চকঢোষ ৮ নম্বর ওয়ার্ডস্থ সরকারি আবাসন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার নুরে আলম বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলকাচিয়া গ্রামের মৃত আবুল কালাম মাঝির ছেলে।
পুলিশ আরও জানায়, থানার রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস যাচাই করে নুরে আলমের বিরুদ্ধে বোরহানউদ্দিন থানায় দায়ের করা আরও একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর দায়ের করা এফআইআর নং-৫, জিআর নং-২৬৩, দণ্ডবিধির ৩৮০ ধারার মামলায় তাকে তদন্তে সন্দিগ্ধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার নুরে আলমকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বোরহানউদ্দিন থানায় দায়ের করা এফআইআর নং-১৬, জিআর নং-২৭৪, দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারার ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে তাদের অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বদা সজাগ ও তৎপর রয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন