মঙ্গলবার,২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মহিপুরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ট্যাংক বিতরণে দুর্নীতি: ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় পানির ট্যাংক বিতরণে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরবিএস এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে।
​জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহায়তায় উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে মহিপুর, লতাচাপলী ও ধুলাসার এই তিন ইউনিয়নে প্রায় ৫০০টি রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং ট্যাংক স্থাপনের কাজ চলছে। তবে এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে পুঁজি করে স্থানীয় একটি অসাধু চক্র ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
​ভুক্তভোগীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য নাম নিবন্ধনের সময় প্রতিটি নামের বিপরীতে জনপ্রতি ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে এবং ট্যাংক বিতরণের সময় ‘অনলাইন ফি’ বাবদ প্রত্যেক সুবিধাভোগীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। ফলে প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি এই অনুদান এখন দালাল চক্রের বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়েছে।
​সরকারি বিধিমালা ও চুক্তি অনুযায়ী, ট্যাংক এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সরঞ্জাম সুবিধাভোগীর বাড়ি পর্যন্ত নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে।
​ভুক্তভোগীরা জানান, নামমাত্র যে ট্যাংক ও সিমেন্টের প্ল্যাটফর্ম (বেইজ) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা নিজ বাড়ি পর্যন্ত নিতে তাদের নিজেদের পকেট থেকে গাড়ি ভাড়া বাবদ অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ করতে হয়েছে। ট্যাংক বাড়ি পর্যন্ত আনা এবং তা বসানোর সামগ্রী সংগ্রহের দায়ও সম্পূর্ণভাবে সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়।
​ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তারের স্বামী বলেন আমরা নিজ খরচে পুরান মহিপুর থেকে ট্যাংক এনে বাড়িতে নিয়েছি। এরপর আবার অনলাইন খরচের কথা বলে আমাদের কাছ থেকে ১০০  টাকা নেওয়া হয়েছে।
​সুদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসান ও মহিপুরের কৃষ্ণ কর্মকার একই অভিযোগ করে জানান, নিজেদের খরচে ট্যাংক বাড়িতে আনার পরও অতিরিক্ত অনলাইন ফি বাবদ ১০০ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে তাদের।
​ ট্যাংক বসানোর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে সরবরাহ করা সিমেন্টের প্ল্যাটফর্মগুলোর মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অত্যন্ত নিম্নমানের কাঁচামাল ও অপর্যাপ্ত উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি এসব প্ল্যাটফর্ম একেবারেই নিম্নমানের  যা সামান্য চাপেই ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং সুপেয় পানি সংরক্ষণের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে।
​এ বিষয়ে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাইলে ট্যাংক বিতরণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রাব্বী ও কুদ্দুস সাংবাদিকদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি সংবাদ প্রকাশ না করতে তারা অর্থ দিয়ে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করারও অপচেষ্টা চালান বলে জোরালো অভিযোগ রয়েছে।
​তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মেসার্স আরবিএস এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ শোয়াইব দাবি করেন, “বৃষ্টি ও কাঁচা রাস্তার কারণে সব জায়গায় ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে পরিবহন ভাড়া যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে পরিশোধ না করা হয়ে থাকে এবং কেউ টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
​এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইব্রাহীম হোসেন বলেন, “চুক্তি অনুযায়ী প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ ও ট্যাংক স্থাপনের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। অনিয়মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করা এবং কাজে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

পঞ্চগড়ে শাহনাজ পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় সিআইডির তদন্ত হত্যাকারিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামের গৃহবধূ শাহনাজ পারভীনের