বৃহস্পতিবার,২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চাটমোহর দুজন শারীরিক প্রতিবন্ধীর পাশে সিডিও, নিজস্ব অর্থায়নে হুইল চেয়ার বিতরণ

রাজ আলীর পৃথিবী  মায়ের কোল থেকে এখন তার নতুন পৃথিবী ‘হুইল চেয়ার’।এখন রাজকে  কোলে পিঠে নিয়ে তার মাকে কাজ করতে হবে না।বারো বছর কোলে-পিঠে রেখে মা তার কাজ করতেন,সারা জীবনের বেদনা আর কান্না যেন আর দৃশ্যমান না হয়- সে লক্ষ্যে সিডিও আজ রাজ আলীকে দিলেন ‘হুইল চেয়ার’। রাজ আলীর বাবা এবং তার দাদা এসে হুইল চেয়ারে বসিয়ে গ্রহণ করলেন হুইল চেয়ারটি। রাজ আলী তার বাঁকা- কুকড়ানো হাত দিয়ে কোন মতে চেয়ার নের নেরে দেখলে। রাজ আলীপাবনা চাটমোহর উপজেলার বিডিগ্রাম ইউনিয়নের  বাঙ্গালা দক্ষিণ পাড়ার ইয়াকুব আলীর ছেলে।
অপর দিকে আর এক প্রতিবন্ধি পাবনা চাটমোহর  উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের  ধলাউড়ি দিয়ারপাড়ার মো: আতাউর রহমান।তাকেও একটি হুইল চেয়ার দেওয়া হয়েছে।আতাউরের বয়স ৪৫ বছর। আতাউরের মা ৫/৬ মাস আগে মারা যাওয়ায় আতাউর আরো অসহায় হয়ে পড়েন। বর্তমানে তার বৃদ্ধ বাবা ময়েজ উদ্দিনও আজ পরিবার হারায়ে অসহায় জীবন যুদ্ধে আটকে যায়।তিনি প্রতিবন্ধি আতাউরকে মায়ের অভাব পূরনে  বর্তমানে তার বোনের কাছে রেখেছেন। অসহায় মা হারা প্রতিবন্ধি আতাউর রহমান এবং স্ত্রী হারা  ময়েজ উদ্দিন তিনিও তার মেয়ের বাড়িতেই খাওয়া – দাওয়াসহ বসবাস করছেন। আতাউরের মা তাকে ৪৫টি বছর কোলে- পিঠে রেখে এবং যাবতীয় সেবা করে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন।আজ তার ছেলে প্রতিবন্ধি জীবনের ৪৫ টি বছর পর চাটমোহরের
সিডিও কর্তৃক দেওয়া একটি হুইল চেয়ার পেল। পরিবারের সদস্যরা মা হারা প্রতিবন্ধিকে কিছু সময় হলেও চেয়ারে বসিয়ে রেখে  কাজ কাম করতে পারবেন। চলাচলে আর বোঝা মনে হবে না। কিন্তু তার অসহায় মা আজ নাই।তাই আতাউরের বাবা মযেজ উদ্দিন তার কষ্টের কথা মনে করে কেঁদে ফেলেন। আজ তার মা থাকলে আরো খুশি হতো। আতাউর হুইল চেয়ারে বসে খুব খুশি হলেন।সবাইকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলেন আর হাসলেন।কিছু বলার চেষ্টা করলেন। হুইল চেয়ারে  বসে বেশ আনন্দ পেলেন। আমরাো তার আরন্দে আনন্দিত হলাম।
আজ ২২ জুলাই সকাল ১১টায় সিটিজেন ডেভলপমেন্ট ওর্গানাইজেশন -সিডিও চাটমোহর জিরোপয়েন্ট এলাকার নিজস্ব কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই প্রতিবন্ধি রাজ আলী এবং
আতাউর রহমানকে  দুই জনকে দুইটি হুইল চেয়ার দিলেন তাদের পিতার নিকট।
অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সিটিজেন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-সিডিও’ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মানব কল্যাণ কাজের অংশ হিসেবে নিজস্ব অর্থায়নে চাটমোহর পৌরসদরের জিরোপয়েন্ট এলাকায় নিজস্ব  কার্যালয় থেকে ২২ জুলাই বুধবার  ১১টায় ঐ দুইজন দুজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাঝে দুইটি হুইল চেয়ার বিতরণ করেছেন। এ উপলক্ষ্যে আয়েজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হুইল চেয়ার বিতরণ করেন চাটমোহর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ সোহেল রানা। সভাপতিত্ব করেন সিডিও’র সভাপতি মোঃ রবিউল করিম রবি। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন- সাপ্তাহিক চাটমোহর বার্তা সম্পাদক এস. এম. হাবিবুর রহমান, চাটমোহর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আমাদের বড়াল  সম্পাদক হেলালুর রহমান জুয়েল, দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি পবিত্র তালুকদার, সিডিও’র কোষাধ্যক্ষ মোঃ ইউনুস আলী প্রমূখ।এ সময় সংস্থাটির কার্যনির্বাহী পরিষদ ও সাধারণ পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক কে, এম, বেলাল হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন সময় আমরা সদস্যদের অনুদানের অর্থ থেকে দুঃস্থ, অসহায় ও সমাজের পিছিয়ে পড়া অসহায় মানুষের কল্যাণের ব্যয় করে থাকে। যেমন-  চোখে লেন্স সংযোজন, শরীরের বিভিন্নস্থানে থাকা টিউমার অপারেশন, অসুস্থ মানুষের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা, দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিতে শিক্ষা অনুদান সহায়তা ইত্যাদি সেবামূলক কাজ।বর্তমানেও ঐসব মানবিক সেবামূলক কার্যক্রম
চলমান রয়েছে। কার্যক্রমগুলো আরো গতিশীল করতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধিনে ‘নাগরিক উন্নয়ন সংস্থা-সিডিও’ নামের এই সংস্থাটির নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চলছে।এই সংস্থাটির
মাধ্যমে আগামীতে  বেকার যুবক ও যুব নারীদেরকে উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকার পাশাপাশি বৃক্ষরোপন, বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ, মাদকদ্রব্য প্রতিরোধ এবং যুব সমাবেশ ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তাগণ এ ধরণের সেবামূলক কাযক্রমকে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে আরো বেশি প্রতিবন্ধি, অসহায পরিবাদের সেবা দিতে পারবেন এমন প্রত্যাশা  ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

মুকসুদপুরে রিয়ান হত্যা: মানববন্ধনে উত্তাল কমলাপুর, আসামিদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের কিশোর রিয়ান মোল্লা (১৩) হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আহত যুবদল নেতা আবু হান্নান ঠান্ডুকে হাসপাতালে দেখতে এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আহত হয়ে একটি পা হারানো সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর