সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর ও পাড়াপুঞ্জি মৌজার অন্তর্গত ১নং ওয়ার্ডের রহমতপুর আলমপুর, কাজীরগাঁও ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা চেলা নদীর শাখা (চৈলতার ঢালা) নামক স্থান হতে নদীর পাড় থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন/ছাড়পত্র ব্যতিত বেআইনীভাবে বালি উত্তোলনের অপরাধে ২৬ জনসহ অজ্ঞাত আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ২২ জুলাই ২০২৬ খ্রি. তারিখে ছাতক থানায় মামলাটি দায়ের করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মোহাইমিনুল হক।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) এর ধারা ৬(৬), ১২ এবং একই আইনের ১৫(১) ধারায় আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিগণ হলেন ১) ইসলাম উদ্দিন মেম্বার (৫২), পিতা- ছালিম উল্লাহ, রহমতপুর, ইসলামপুর ইউপি, ছাতক, সুনামগঞ্জ ২) জমির আলী (৩৮), পিতা- ছালিম উল্লাহ, রহমতপুর, ইসলামপুর ইউপি, ছাতক, সুনামগঞ্জ ৩) খালিক মিয়া (৪০), পিতা- সামাদ, আলমপুর, ইসলামপুর ইউপি, ছাতক, সুনামগঞ্জ ৪) মাহমদ হোসন (৫০), পিতা- আতিকুর রহমান, আলমপুর, ইসলামপুর ইউপি, ছাতক, সুনামগঞ্জ ৫) ধন মিয়া মেম্বার (৬৫), পিতা-জাহির আলি, সোনাপুর, নরসিংপুর, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জসহ ২৬ (ছাব্বিশ) জন। মামলায় আরও ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৬/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেলা ৩.০০ ঘটিকায় সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর ও পাড়াপুঞ্জি মৌজার অন্তর্গত ১নং ওয়ার্ডের রহমতপুর আলমপুর, কাজীরগাঁও ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা চেলা নদীর শাখা (চৈলতার ঢালা) নামক স্থান হতে নদীর পাড় থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ব্যতিত বেআইনীভাবে বালি উত্তোলনের এলাকা পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মোহাইমিনুল হক কর্তৃক সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ও সরজমিন পরিদর্শনে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়ায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ০৬/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখ থেকে ১৬/০৭/২০২৬ তারিখ পর্যন্ত রাত ৮.০০ ঘটিকার পর থেকে সকাল পর্যন্ত নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হয়। এটা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) এর ধারা ৬(৬), ১২ এবং একই আইনের ১৫(১) ধারার টেবিল ক্রমিক নং-৮ ও ১২ অনুসারে বিচার্য।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদী মোঃ মোহাইমিনুল হক বলেন, গত ৬ জুলাই ১৬ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বর্নিত আসামীরা পাড় কেটে বালুউত্তোলন করে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধন করায় মামলাটি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা এ বিষয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবেন।




