পঞ্চগড়ে দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধের জেরে একই পরিবারের চারজনকে মারধর, থানায় মামলা

পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের সোনারবান এলাকায় দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে মারধর, শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা, স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া, শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে চারজনের নাম উল্লেখ করে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী আহসান শামীম (২৭)। তিনি উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের সোনারবান এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।
গত ১০জুলাই পঞ্চগড় সদর থানায় দায়ের করা মামলায় একই এলাকার মোহাম্মদ আলীর দুই ছেলে মুসা (৪০) ও বেলাল হোসেন (৪৫), মৃত সমসের আলীর ছেলে আব্দুর রহিম (৫২) এবং সোহরাব আলীর ছেলে আবু হানিফ (৩০)-কে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাদীপক্ষ ও বিবাদীপক্ষের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ জুলাই বিকেলে বাড়ির পাশে সুপারি গাছে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রথমে ১ নম্বর আসামি মুসা বাদীর ভাতিজা আবু বক্করকে সুপারি গাছে পানি দিতে বলেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে মুসা তাকে মারধর করেন এবং অণ্ডকোষ চেপে ধরে শারীরিক নির্যাতন করেন। এ সময় আবু বক্করের চিৎকার শুনে তার দাদি শামছুননাহার বেগম ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে অন্য আসামিরাও দেশীয় লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে সংঘবদ্ধভাবে হামলায় অংশ নেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। হামলায় বাদীর মা বাবা গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। শামছুননাহার বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধরের পাশাপাশি তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। একই সময় তার গলায় থাকা প্রায় ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক খুলে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মায়ের চিৎকার শুনে বাদীর বাবা আবুল হোসেন এগিয়ে এলে তাকেও লাঠি দিয়ে মারধর, বুকে ও পেটে লাথি এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বাদী আহসান শামীম পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এ সময় তার মায়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং পরিহিত কাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় আহসান শামীম, তার বাবা আবুল হোসেন, মা শামছুননাহার বেগম এবং ভাতিজা আবু বক্কর আহত হন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় আসামিরা ভুক্তভোগীদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে বাদী আইনগত প্রতিকার চেয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হামলা, গুরুতর জখম,নারী নির্যাতন, শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা, স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া, শ্লীলতাহানির চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি এবং দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদী আহসান শামীম বলেন,দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত ৬ জুলাই বিকেলে আমার ভাতিজা আবু বক্করকে মুসা সুপারি গাছে পানি দিতে বললে সে অস্বীকৃতি জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুসা তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে মারধর করে। পরে আমার মা-বাবাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। আমার মায়ের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে প্রধান আসামি মুসার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল  বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন