পরিত্যক্ত কাউখালী ডাকবাংলো এখন ডেঙ্গু মশার অভয়ারণ্য হওয়ার শঙ্কা

কাউখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পরিত্যক্ত ডাকবাংলোটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন পরিণত হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধ এলাকার এক উদ্বেগজনক স্থানে।
 সাম্প্রতিক সময়ে তোলা ছবিতে দেখা যায়, পুরো ভবনের সামনের অংশ হাঁটুসমান স্থির পানিতে তলিয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এই পানি ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন এবং স্বাস্থ্য বিভাগও জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত ডাকবাংলোর ভেতর ও চারপাশে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকলেও তা অপসারণ বা পরিষ্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে আগাছা, ঝোপঝাড় ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ মশার বিস্তারের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও স্থির পানিতে ডিম পাড়ে। কোনো স্থানে ৫–৭ দিনের বেশি পানি জমে থাকলে সেখানে মশার বংশবিস্তার দ্রুত ঘটে। তাই এমন জলাবদ্ধ স্থান দ্রুত পরিষ্কার করা এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি দ্রুত ডাকবাংলো প্রাঙ্গণের জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে।
নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আগাছা অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে।
মশকনিধন কার্যক্রম (ফগিং ও লার্ভিসাইড স্প্রে) জোরদার করতে হবে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ যখন বাড়ছে, তখন এমন পরিত্যক্ত ও জলাবদ্ধ স্থাপনা শুধু একটি অব্যবহৃত ভবন নয়—এটি পুরো এলাকার জনস্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকির উৎস হয়ে উঠতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন