বংশীকুণ্ডা উত্তরবাসীর প্রত্যাশায় চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহরিয়ার রিপন

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নে নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমেই প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের গণসংযোগ, মতবিনিময় ও নির্বাচনী প্রচারণায় সরগরম পুরো ইউনিয়ন। এ সময় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী তরুণ সমাজসেবক শাহরিয়ার রিপন, যিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে উন্নয়ন, সুশাসন ও জনকল্যাণকে সামনে রেখে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
শাহরিয়ার রিপনের ভাষ্য, ইউনিয়নের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে শিক্ষিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তাঁর মতে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব করতে হলে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
তিনি বলেন, “তারুণ্যের দীপ্তিময় আলোয় আলোকিত হোক আমাদের প্রিয় ইউনিয়ন। আমি চাই একটি উন্নত, নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে, যেখানে প্রতিটি মানুষ সমান মর্যাদা ও সেবা পাবে।”
তিনি আরও জানান, ব্যক্তিগত কর্মজীবনের চেয়ে এলাকার মানুষের সেবাকেই তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন। নির্বাচিত হলে দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে ইউনিয়নের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ ও সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।
নির্বাচনী অঙ্গীকার
শাহরিয়ার রিপনের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গঠনের লক্ষ্য। তাঁর অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে রয়েছে—
রাস্তাঘাট, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন।
কৃষকদের জন্য সার, বীজ, ভর্তুকি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা এবং অসহায়, দরিদ্র, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা।
গ্রামভিত্তিক দ্রুত, স্বচ্ছ ও পক্ষপাতহীন সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে যুবসমাজকে ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে আনা।
ইউনিয়নের সকল নাগরিক সেবা ডিজিটালাইজড করা, যাতে জন্ম নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় সেবা সহজেই অনলাইনে পাওয়া যায়। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও আইসিটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
নিয়মিত খেলাধুলা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও মাদকমুক্ত রাখা।
বৌদ্ধ, হিন্দু, খ্রিস্টান, হাজং, গারোসহ সকল ধর্মীয় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের নিরাপত্তা, শিক্ষা, মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা।
প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিক সেবা কেন্দ্র স্থাপন করে জন্ম নিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ প্রয়োজনীয় সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
প্রতিটি ওয়ার্ডে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সক্রিয় করে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ও সহজ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
মিথ্যা মামলা ও হয়রানিমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রমাণিত হয়রানির ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে কার্যকর ভূমিকা পালন করা।
এ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্ন ইউনিয়ন গড়ে তোলা, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠারও অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
ভোটারদের প্রত্যাশা
ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে আমাদের প্রতিনিধি দেখতে পান, অনেক ভোটারই শিক্ষিত নেতৃত্বকে সময়ের দাবি হিসেবে দেখছেন।
আজিম মাহমুদ বলেন, “শাহরিয়ার রিপন সৎ, শিক্ষিত ও ভদ্র একজন মানুষ। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি নির্বাচিত হলে ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেবেন।”
সাঁতারগড় গ্রামের বারেক মিয়া বলেন, “ছোটবেলা থেকেই রিপনকে চিনি। সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে। চেয়ারম্যান হলে সাধারণ মানুষ সহজে বিচার ও সরকারি সেবা পাবে।”
গোলগাঁও গ্রামের আশরাফুজ্জামান হীরা বলেন, “তিনি নির্বাচিত হলে সরকারি সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে বৈষম্য ছাড়াই পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে আমার বিশ্বাস।”
হোসেনপুর গ্রামের তরুণ প্রতিনিধি রাকিবুল ইসলাম তনু বলেন, “শিক্ষিত নেতৃত্ব এলে যুবসমাজের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। খেলাধুলা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।”
তিনি আরও বলেন, “চেয়ারম্যান এমন একজন হওয়া উচিত, যিনি দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে কাজ করবেন। জনগণের সেবা, সততা, জবাবদিহিতা এবং উন্নয়নের অঙ্গীকারই একজন প্রকৃত জনপ্রিয় চেয়ারম্যানের পরিচয়। আমরা এমন নেতৃত্ব চাই, যিনি সবার জন্য সমানভাবে নিবেদিত থাকবেন।”
সচেতন মহলের অভিমত
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ শুধু অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি স্থানীয় প্রশাসন, জবাবদিহিতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও জনসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ফলে একজন শিক্ষিত, দক্ষ ও সেবামুখী নেতৃত্ব স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তাদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত সাফল্যের পরিবর্তে নিজ এলাকার মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার যে প্রত্যয় শাহরিয়ার রিপন দেখিয়েছেন, তা ইতোমধ্যেই ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে তারুণ্য, উচ্চশিক্ষা, সততা এবং উন্নয়নকেন্দ্রিক পরিকল্পনা তাঁকে বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের নির্বাচনী আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও দিন দিন বাড়ছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন