মঙ্গলবার,২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুনামগঞ্জ-৪ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মনোনীত সংসদ পদপ্রার্থী মুফতি শহিদুল ইসলাম পলাশীর ইশতেহার ঘোষণা

রাষ্ট্র গঠনের নীতিগত ও প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবা-ই আমাদের

মুখ্য অঙ্গীকার।

-পীর সাহেব চরমোনাই

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে-এর আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই মনোনীত সুনামগঞ্জ-০৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে হাতপাখা মার্কায় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী (আমি) মুফতী শহীদুল ইসলাম পলাশী বলছি:

এই ইশতেহার সুনামগঞ্জ-০৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আমার একটি প্রতিজ্ঞা।

ইশতেহারে সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) গঠনের নীতিগত ও প্রশাসনিক উন্নতি, ইউনিয়ন ভিত্তিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনমানুষের জন্য জরুরী ব্যবস্থা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক সেবা-ই আমার মূখ্য অঙ্গিকার হিসাবে ঘোষনা করছি।

আজ ০৮ ফেব্রুয়ারী-২৬, রবিবার, বিকাল ৩ ঘটিকায় আমার নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর পীর সাহেব চরমোনাই মনোনীত সুনামগঞ্জ-০৪ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আমি মুফতী শহীদুল ইসলাম পলাশী-এর উপস্থাপিত ইশতেহারের শিরোনাম রাখা হয়েছে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার”। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে-এর কেন্দ্রিয় ইশতেহার বাস্তবায়নের পাশা-পাশি সুনামগঞ্জ-০৪ আসন উন্নত ও সমৃদ্ধশীল করতে নিম্নে ৩১ দফা ইশতেহার তুলে ধরা হলো।

ভূমিকা:

“জনপ্রত্যাশার ইশতেহার”

নির্বাচনের মাধ্যমে সমাজ-রাষ্ট্রের পরিচালক ও নীতি নির্ধারণ হয়ে থাকে। আর নির্বাচনের আগে ইশতেহারের মাধ্যমে জাতির সামনে প্রার্থীর নীতি-ভাবনা ও সমাজ গঠনের রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি মুফতী শহীদুল ইসলাম পলাশী আমার নীতি-ভাবনা ও সুনামগঞ্জ-০৪, (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) গঠনের রূপরেখা উপস্থাপন করার জন্য এই ইশতেহার পেশ করছি।

ইনশাআল্লাহ, মহান আল্লাহর রহমত ও আপনাদের সমর্থনে সুনামগঞ্জ-০৪ আসনের এমপি মনোনীত হলে এই ইশতেহারের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নে আমি মুফতী মুহাম্মাদ শহীদুল ইসলাম পলাশী দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকবো, ইনশাআল্লাহ।

২৪ এর জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থান সংঘঠিত হয়। দুই হাজারের বেশী মানুষের মৃত্যু, হাজার হাজার নাগরিকের পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্বের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ-এর মুখ দেখি। ইশতেহার পাঠের পূর্বে আমি ৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ২৪ এর জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী, আহত ও আত্মোৎসর্গকারীদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। বিশেষত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র বীর জুলাই যুদ্ধা শহীদ শরীফ উসমান হাদী রহ এর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

ইশতেহার:

১- সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সকল নাগরিকের প্রতি ন্যায্যতা ও সুবিচার নিশ্চিত করা।

২- সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সর্ব ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থান বজায় রাখা এবং নিজ নিজ ধর্ম পালনে সকল ধর্মাবলম্বীদের যথাযোগ্য অধিকার, নিরাপত্তা ও সরকারী সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

৩- শিক্ষার মানোন্নয়নসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন ও মানবিকতা নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রযুক্তি নির্ভর Smart Education চালু করা।

৪- প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করা করা।

৫- উত্তর-পূর্ব সুনামগঞ্জ তথা সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়নে একটি সাধারণ কলেজ ও একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করা।

৬-বিশ্বম্ভরপুর উপজলায় একটি মহিলা কলেজ বাস্তবায়ন করা।

৭- অসহায়, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি চালু ও শিক্ষা উপকরণ সহজলভ্য করা।

৮- মাদক, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, কিশোরগ্যাং, জুয়া, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে Zero Tolerance (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করা।

৯- যানজট নিরসন ও জলাবদ্ধতা দূর করতে আধুনিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে সুনামগঞ্জ শহর কে একটি পরিচ্ছন্ন ও মডেল শহরে রুপান্তরিত করা।

১০-সকল দফতর কে দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত করা এবং ইনসাফ ভিত্তিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

১১- সুনামগঞ্জ পৌরসভা, সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও পয়েন্টে জন স্বার্থে নামাযের জায়গা, পাবলিক টয়লেট ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা।

১২- বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়, জনবহুল এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ করা।

১৩- সুনামগঞ্জ-০৪ আসনের সর্বস্তরের নাগরিকের নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পয়েন্ট ও ব্যজারে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা।

১৪- কৃষকদের ফসল রক্ষার্থে যথাসময়ে হাওরের প্রবেশমুখে বেড়িবাঁধ নির্মাণ নিশ্চিত করণ এবং হাওড়ের অভ্যন্তরে গাড়ি চলাচল উপযোগী পাঁকা রাস্তা নির্মান করা।

১৫- কৃষকদের জন্য সরকারি ভর্তুকি ভিত্তিক সার ও বীজ বিতরণে স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

১৬- অবহেলিত বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স কে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ও সদর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স কে ২৫০ থেকে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট করণসহ ক্লিনিকসমূহে দুর্নীতি বন্ধ ও আধুনিকায়ন করে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা।

১৭- সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবায় মানসম্মত সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা।

১৮- উন্নয়নমূলক অবকাঠামো যথা- রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ, হাসপাতাল, শিক্ষা, পানি, গ্যাস, ইত্যাদি প্রকল্প উন্নয়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

১৯- ব্রিজ নির্মাণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য তিনটি বড় ব্রিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা।

(ক) সুনামগঞ্জ ধাড়ারগাঁও- হালুয়াঘাট ব্রিজ।

(ক) বিশ্বম্ভরপুর ও সদর উপজেলার বিশাল একটি অংশে সংযোগের জন্য রামপুর-বালাকান্দা বাজার ব্রিজ।

(খ) মোহনপুর ইউনিয়নের জয়নগর বাজার-বানিপুর বর্মাউত্তর ব্রিজ।

২০- প্রয়োজনীয় সরকারী সহায়তা, বয়স্কভাতাসহ সকল প্রকার সরকারী ভাতা ও সেবা প্রাপ্তিতে গরীব ও অসহায় মানুষের জন্য সচ্চতার সাথে সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।

২১- শিশু কিশোরদের জন্য আধুনিক ক্রিড়াঙ্গন প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, সভা-সমাবেশ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানেরে জন্য অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম এবং আধুনিক সুযোগ সুবিধা সমৃদ্ধ সাংবাদিক মিলনায়তন নির্মাণ করা।

২২- প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের জন্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা।ইশতেহার:

২৩- বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সুনামগঞ্জ শহর সংলগ্ন এলাকায় যতেষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।

২৪- নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থান ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

২৫- সুনামগঞ্জে বহুল প্রত্যাশিত রেল লাইন বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা গ্রহণ করা। ইনশাআল্লাহ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সুনামগঞ্জে রেল লাইন স্থাপনের জোর প্রস্তাবনা পেশ করা হবে।

২৬- মসজিদের ইমাম, খতীব, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও বেসরকারী মাদরাসা শিক্ষকদের জন্য বিশেষ ভাতা চালু করণসহ অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান করা।

২৭- কওমি মাদরাসার দাওরা-ই হাদিসের সনদের সরকারী স্বীকৃতি কার্যকরে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করা। এবং শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সকল কর্মচারীগন কে এমপিভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমমানের সকল সুযোগ-সুবিধা বাস্তবায়নের শতভাগ চেষ্টা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

২৮-প্রবাসীদের সকল ভুগান্তি, হেনস্থা দূরীকরণ ও সহজে আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা করা।

২৯- ডিজিটাল জমি রেজিষ্ট্রেশন ও স্বচ্ছতা উন্নয়ন: জমির রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করা। দুর্নীতি রোধে কঠোর আইন প্রবর্তন করা এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ সেল গঠন করা।

৩০- ভূমি অফিসে দক্ষতা বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। ভূমি অফিসে কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য সহজ ও দ্রুত আইনি পদ্ধতির প্রবর্তন করা।

৩১- নিয়মিত জনগণের সমস্যার কথা শোনা এবং ত্য সংসদে উপস্থাপন করে সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

উপসংহার:-

এটি একটি প্রতিশ্রুতি, ইনশাআল্লাহ। সুনামগঞ্জ-০৪ আসনের জনগণের কল্যানে কাজ করার জন্য আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আপনাদের সমর্থন, দোয়া এবং মহান আল্লাহর রহমত ছাড়া এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আমি বিশ্বাস করি, ঐক্যবদ্ধ পথচলার মধ্য দিয়ে আমরা সুনামগঞ্জকে একটি উন্নত, মডেল, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিনত করতে পারবো। ইনশাআল্লাহ।

মুফতী শহীদুল ইসলাম পলাশী

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

পঞ্চগড়ে শাহনাজ পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় সিআইডির তদন্ত হত্যাকারিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামের গৃহবধূ শাহনাজ পারভীনের