৬৩০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনছে ভারত

ভারত তাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার (প্রায় ৭৮ হাজার কোটি টাকা/) মূল্যের নতুন সামরিক সরঞ্জাম কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। শুক্রবার দেশটির সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।

কেনা হবে ক্ষেপণাস্ত্র, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা, কামিকাজে ড্রোনসহ আধুনিক বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম। সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (ডিএসি) এই অনুমোদন দিয়েছে। এই কাউন্সিলে দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন। সরকারের হিসাবে, পুরো প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় হবে প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার।

তবে সরকার এখনো জানায়নি, এই সরঞ্জামগুলো কবে কেনা হবে। এগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে, নাকি ভারতের ভেতরেই তৈরি করা হবে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। সরকার জানিয়েছে, এই পরিকল্পনার আওতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা, মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, বহনযোগ্য ট্যাংক, বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন ব্যবস্থা কেনা হবে। এর পাশাপাশি ডিএসি নতুন ধরনের নৌ-মাইন এবং জাহাজ থেকে পরিচালিত ড্রোন কেনার অনুমোদন দিয়েছে।

সমুদ্র প্রতিরক্ষা আরো শক্তিশালী করা এবং নজরদারির সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি বিশেষ পরীক্ষাকেন্দ্রও গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম একটি চালকবিহীন উড়োজাহাজ (ইউএভি) প্ল্যাটফর্ম কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এটি মূলত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং দূর থেকে নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হবে।

গত এক দশকে ভারত তাদের সামরিক সরঞ্জামের জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া ছিল ভারতের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী।

কিন্তু এখন নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সসহ অন্য দেশ থেকেও অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি কিনছে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করতে নিজস্ব উৎপাদনও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি ধারাবাহিকভাবে প্রতিরক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের সংঘাত ভারতের সামনে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরো শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে তোলে। সেই অভিজ্ঞতার পর সামরিক বাহিনীকে আরো আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার উদ্যোগ জোরদার করেছে নয়াদিল্লি।

শুধু স্থল ও বিমানবাহিনী নয়, ভারত তাদের নৌবাহিনীকেও দ্রুত আধুনিক করার চেষ্টা করছে। এর অন্যতম কারণ ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চীনের বাড়তে থাকা উপস্থিতি ও প্রভাব। এই পরিস্থিতিতে সমুদ্রে নিজেদের সক্ষমতা আরো বাড়াতে নতুন যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বরে দেশটি অন্তত ৭৫টি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নির্মাণ ও সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করে। এর বেশির ভাগই ভারতের নিজস্ব কারখানায় তৈরি হবে। এর আগে চলতি বছরের শুরুতেও ভারত প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার মূল্যের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দেয়। সেই তালিকায় ফ্রান্স থেকে রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্তও ছিল।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

আজ রথযাত্রা উৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব