বগুড়ায় চা কারিগরের ওপর হামলায় বাধা দেওয়ায় শ্রমিক নেতাকে পিটিয়ে জখম

বগুড়া সদর উপজেলার জয়পুরপাড়ায় এক চা কারিগরকে মারধরের প্রতিবাদ ও বাধা দিতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের এক নেতা। হামলায় গুরুতর আহত শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বগুড়া সদরের ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মোঃ আতিকুল ইসলাম লয়াকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) ভর্তি করা হয়েছে।
 জয়পুরপাড়া মাটিডালি বাজার সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী চা কারিগর হাফিজুর (২৩) আগে একই এলাকার বাবুল কাজীর চায়ের দোকানে কাজ করতেন। কিছুদিন আগে অসুস্থতার কারণে তিনি সেখানে কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকার পর গত ২৩ জুলাই তিনি শ্রমিক নেতা আতিকুল ইসলাম লয়ার কাছে কর্মসংস্থানের জন্য সহায়তার অনুরোধ জানান। আতিকুল ইসলাম লয়া পরবর্তীতে জয়পুরপাড়া মাটিডালি বাজার এলাকার একটি দোকানে তার কাজের ব্যবস্থা করে দেন। গত শুক্রবার থেকে হাফিজুর সেখানে কাজ শুরু করেন।অভিযোগ উঠেছে, আজ বিকেলে বাবুল কাজী ও তার সহযোগী আরিফুল, তামিলসহ ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল চায়ের দোকানের সামনে এসে হাফিজুরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। খবর পেয়ে দুপুরের খাবার শেষে বাসা থেকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান শ্রমিক নেতা আতিকুল ইসলাম লয়া। তিনি হামলাকারীদের বাধা দিয়ে হাফিজুরকে রক্ষার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তার ওপর চড়াও হয়।একপর্যায়ে হামলাকারীরা লোহার পাইপ দিয়ে আতিকুল ইসলাম লয়ার মাথায় আঘাত করলে তার মাথা ফেটে গুরুতর জখম হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। পরে স্থানীয় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান বাবুল কাজী (পিতা: সোবহান কাজী), আরিফুল, তামিল ও তাদের সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় বগুড়ার সর্বস্তরের শ্রমিক জনতাকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে প্রতিবাদ জানানোর ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিক সংগঠনটি।এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন