যেকোন চাকরি – হোক সেটা সরকারী কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, চাকরি পেতে হলে প্রত্যেককেই নিয়োগ কমিটির নিকট কিংবা মনোনীত ব্যক্তির নিকট ভাইভা দিয়েই চাকরিটা পেতে হয়। হুম অবশ্যই এটা একটা যুক্তিযুক্ত পন্থা। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় আমি কি চাকরির ভাইভা দিতে এসেছি অপরদিকে নিয়োগকর্তারও মনে রাখা উচিত তিনিও কি চাকরির জন্য ভাইভা নিতে বসেছেন।
আদিকাল থেকে নিয়োগকর্তারা একই জিনিস করে আসছেন আর সেটা হল আমি যেখান থেকে ইচ্ছে প্রশ্ন করবো আর প্রার্থী উত্তর দিতে পারলেই সে যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। যেটা বিংশ শতাব্দী কিংবা আধুনিক যুগে এসেও অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রশ্নের উত্তর পারাটা যতটা না জরুরী তার চাইতে জরুরী সে যে কাজ করবে তা সম্পর্কে সে কি জানে? কিংবা কতটুকু জানে?
গত বেশ কিছুদিন ধরে সারগম রয়েছে “ফ্যামিলি কার্ড” তৈরীর জন্য বিভিন্ন উপজেলায় তথ্য সংগ্রহকারী এবং তত্বাবধানের জন্য কিছু সুপারভাইজার নিয়োগ করা হবে। বাংলাদেশে যে কি পরিমান বেকার রয়েছে তার আংশিক চিত্র এ নিয়োগে ফুটে উঠছে। সমাজ সেবা অধিদপ্তর এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর নিয়োগ ব্যবস্থার দায়িত্ব দেওয়া আছে। বেশ কিছু উপজেলায় ভাইভাও নেওয়া হয়ে গেছে আবার গতকালের নোটিশে আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
যারা ভাইভা দিয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায় কি ধরনের প্রশ্ন করা হচ্ছে ভাইভা বোর্ডে?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রার্থী বলেন সেখানে মানা হয়নি ভাইভার ড্রেস কোটেশন। যদিও ড্রেসের বিবরণ কোন নোটিশে উল্লেখ নাই।
এবার আসে প্রশ্নে।
ক) আপনার নাম?
খ) পাখি আকাশে উড়ে ইংরেজিতে ট্রান্সলেশন করুন।
গ) শেষের কবিতা কার লেখা? এটি কি? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম তারিখ কত?
ঘ) সিসি ক্যামেরার ফুল ফর্ম কি?
ঙ) RAM, ROM এর ফুল ফর্ম কি?
চ) সার্চ ইঞ্জিন কি?
আচ্ছা এ প্রশ্ন গুলো করার যুক্তিযুক্ত কারন কি?
ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগের সঙ্গে এসব প্রশ্নের অনেকে মনে করেন যুক্তিযুক্ত কারন নেই।
একটা ভাইভা মানে খুঁজে খুঁজে এমন একজনকে বের করা যে ঐ পদের জন্য পারফেক্ট ক্যান্ডিডেট। সেটা অবশ্যই প্রশ্ন করেই কিন্তু সেটি অবশ্যই নিয়োগ রিলেটেড হওয়া উচিত।
প্রশ্নগুলো এমন হওয়া উচিত-
১। আপনি কি কখনও এর আগে কোন জরিপের কাজ করেছেন?
২। “ফ্যামিলি কার্ড ” মূলত কি জিনিস?
৩। এর লক্ষ্য কি?
৪। কারা এ কার্ড পাবে?
৫। একজন তথ্য সংগ্রহকারী কিংবা সুপারভাইজার এর কাজ কি?
৬। যেহেতু ট্যাব দিয়ে কাজটা করানো হবে সেহেতু সেটি প্রার্থী অপারেট করতে পারে কি না- সেটি লক্ষ্য রাখতে হবে।
৭। আপনি কেন এ কাজ করতে এসেছেন? কিংবা কেন নিজেকে এ পদের জন্য যোগ্য মনে করছেন?
এসব প্রশ্ন গ্রুপ ভাইভা করেও নেওয়া সম্ভব। তাতে খুব কম সময়ে প্রতিটা গ্রুপ থেকে উত্তরের ভিত্তিতে পারফেক্ট লোক খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
যখন কোন চাকরির ভাইভা নেওয়া হয় সবচাইতে বেশি সেই চাকরিটার দিকে ফোকাস থাকা উচিত নিয়োগকর্তাদের। প্রার্থী কতটুকু জানে এই চাকরিটা সম্পর্কে, সে তথ্যগুলো ওপর আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
প্রার্থী রবীন্দ্রনাথের জন্ম তারিখ পারলেন বলে প্রার্থী পারফেক্ট? কখনই না। ফ্যামিলি কার্ড রবীন্দ্রনাথ করবে না এখানে এ প্রশ্ন অপ্রাসঙ্গিক।
ডিপলি যদি প্রশ্ন থাকে তার মধ্যে –
পাইলটিং কি?
এসডিজি কি?
পিএমটি কি?
এগুলো প্রশ্ন করতে পারেন। যদিও এগুলো সবগুলো এ কাজের জন্য রিলেটেড তারপরেও প্রার্থীদের জন্য সম্ভবত খুবই কঠিন।
অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে যারা পূর্বে জরিপের কাজ করেছে তাদেরকে। একজন বেকার যদি প্রথমে সুযোগই না পায় তাহলে কি করে তাদের অভিজ্ঞতা হবে?
একজন নিয়োগকর্তার যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে শুধু প্রশ্ন নয়, প্রার্থীর সাথে একটা ছোট মিটিং। প্রার্থীকে বুঝা, প্রার্থীর ধৈর্যশীলতা যাচাই করা, কেন সে এই কাজটি করতে এসেছে এগুলো সম্পর্কে তথ্য বের করে আনা এবং তার প্রেক্ষিতে নিয়োগ প্রদান করা বুদ্ধিমানের কাজ।




