মঙ্গলবার,২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কালিগঞ্জে জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ফলদ বৃক্ষ রোপণ করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে আজ (২২ জুন) সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা কৃষি অফিস প্রাঙ্গণে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওয়াসীম উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রজেক্টরের মাধ্যমে আধুনিক ফল চাষ ও কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মানবিকা শীল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন এবং মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম খান। উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা নাঈমুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার দে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম খান বলেন, “পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে ফল চাষের কোনো বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মকে দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানাতে এবং ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ মেলা উপলক্ষে চত্বরে স্থাপিত বিভিন্ন ফল ও প্রদর্শনীর স্টল পরিদর্শন করেন। এরপর স্থানীয় ফল চাষি ও কৃষকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কৃষকদের উন্নত জাতের ফল চাষ পদ্ধতি, রোগবালাই দমন এবং ফলচাষে উদ্বুদ্ধকরণমূলক বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় কৃষক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Read More »

কালিগঞ্জে বিএনপি অফিসে ককটেল নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় একের পর এক বিএনপি কার্যালয় লক্ষ্য করে ককটেল হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলার দুটি ইউনিয়নে পরপর দুটি বড় ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটল। সর্বশেষ গত রাতে মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী গ্রামের বিএনপি কার্যালয়ে আবারও ককটেল নিক্ষেপ ও তরল জ্বালানি ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। কালিগঞ্জে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় দফার হামলা। এই ধারাবাহিক নাশকতায় পুরো উপজেলা জুড়ে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা, উদ্বেগ ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ ২০ জুন শনিবার রাতের শেষাংশে মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী গ্রামে অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়টি লক্ষ্য করে আবারও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত। শুধু ককটেল মেরেই ক্ষান্ত হয়নি তারা, গভীর রাতে অফিসের ভেতরে ও বাইরে তরল জ্বালানি ঢেলে পুরো কার্যালয়টি জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অফিসের বাইরের অংশে আগুন লেগে যায়। গভীর রাতে আগুনের শিখা ও বিকট শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এর আগে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়েও গভীর রাতে একই কায়দায় ভয়াবহ ককটেল হামলা চালানো হয়েছিল। সেদিন রাত আনুমানিক ১০:৩০ টার পর একদল দুর্বৃত্ত পরপর তিনটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে একটি ককটেল অফিসের ভেতরে গিয়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় এবং বাকি দুটি অফিসের বাইরে বিস্ফোরিত হয়ে পুরো এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলার কৃষ্ণনগর ও মথুরেশপুর (দুদলী) ইউনিয়নে পরপর দুটি সুপরিকল্পিত হামলার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হেমায়েত আলী বাবুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: “এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। অপরাধীরা কতটা বেপরোয়া হলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দু-দুবার হামলা ও তরল জ্বালানি ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাতে পারে! আমরা অবিলম্বে এই নাশকতার সাথে জড়িত সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।” এদিকে একের পর এক এই নাশকতার ঘটনা কালিগঞ্জ থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শহিদুল ইসলামের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মথুরেশপুরে পুনরায় হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং আলামত সংগ্রহ করে। এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার নবাগত ওসি মোঃ শহিদুল ইসলাম কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন: “কালিগঞ্জের মাটিতে কোনো ধরনের নাশকতা বরদাশত করা হবে না। দুদলী গ্রামের বিএনপি অফিসে আগের ঘটনার তদন্ত চলার মাঝেই আবারও যারা এই জ্বালানি ঢেলে আগুন দেওয়া ও ককটেল নিক্ষেপের সাহস দেখিয়েছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ঘটনাগুলোর তদন্ত করছে। অপরাধী যে দলেরই হোক বা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের টেনে-হিঁচড়ে আইনের আওতায় আনা হবে।” পুলিশ জানিয়েছে, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মথুরেশপুর ও কৃষ্ণনগরসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Read More »

কালিগঞ্জে ভুয়া ডাক্তারের ‘খুনে চিকিৎসা’, যুবকের কিডনি বিকল: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ মাসের জেল

অন্য চিকিৎসকের নাম ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন নম্বর চুরি করে রাজধানী ঢাকার নামী প্রতিষ্ঠানের একাধিক ভুয়া উচ্চতর ডিগ্রীধারী সেজে । অবশেষে প্রশাসনের এক আকস্মিক অভিযানে ধুলিসাৎ হয়েছে তার সেই ‘খুনে চিকিৎসা’র পৈশাচিক জালিয়াতির সাম্রাজ্য। এই ভুয়া চিকিৎসকের ভুল ও উচ্চমাত্রার ওষুধের বিষক্রিয়ায় তীব্র কিডনি বিকলতা (Acute Kidney Injury) নিয়ে মৃত্যুর দুয়ার থেকে অলৌকিকভাবে ফিরে এসেছেন এক যুবক। সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) দুপুরে কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা বাজারে ‘মানবস্বপ্ন হেলথ কেয়ার সেন্টার’ নামের এক তথাকথিত চেম্বারে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযানকালে জালিয়াতির সমস্ত অভিযোগ হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত ভুয়া চিকিৎসক মোঃ ইয়াসিন আলী ওরফে পলাশকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম। অভিযানে তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ডালিয়া আক্তার সাথী। লিখিত অভিযোগ ও মেডিকেল নথি পর্যালোচনা করে জানা যায়, দণ্ডিত ইয়াসিন আলী পলাশ মূলত একজন ডিপ্লোমা (DMF) ধারী। কিন্তু আইন অনুযায়ী ন্যূনতম এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রী ছাড়া নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবী ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও সে নলতা বাজারে চেম্বার খুলে নিজেকে ঢাকার পিজি হাসপাতাল থেকে সরাসরি আগত “নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ চিকিৎসক” হিসেবে জাহির করে আসছিল। তার প্রেসক্রিপশন প্যাডে ব্যবহার করা হতো— এমবিবিএস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য), পিজিটি (শিশু রোগ ও শিশু স্বাস্থ্য), এমডি (শিশু রিউম্যাটোলজি) রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল)-এর মতো সব চোখ ধাঁধানো ভুয়া ডিগ্রী। শুধু তাই নয়, সে প্যাডে বুক ফুলিয়ে যে বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বরটি (ডি-১৩১৯৮) ব্যবহার করছিল, সেটি মূলত ডাঃ এ জেড এম ফখরুল ইসলাম নামের দেশের একজন প্রকৃত ও বৈধ এমবিবিএস চিকিৎসকের। ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাটকেখালি গ্রামের মতি সরদারের ছেলে তন্ময় সরদার (৩০) তীব্র পেটে ব্যথা নিয়ে ৩০০ টাকা ভিজিট দিয়ে এই কসাইয়ের চেম্বারে যান। DMF ধারী হয়েও ইয়াসিন আলী পলাশ রোগীকে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে না পাঠিয়ে নিজেই একগাদা উচ্চমাত্রার এলোপ্যাথিক ওষুধ লিখে দেয়। সে রোগীকে উচ্চমাত্রার এনএসএআইডি (NSAID) ব্যথানাশক ‘ন্যাপ্রসিন প্লাস ৩৭৫ মি.গ্রা.’ সহ বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ও ক্ষতিকর ড্রিপ প্রেসক্রাইব করে। এই ভুল ও অপচিকিৎসার মাত্র ২ দিনের মাথায় তন্ময়ের শরীর, মুখমণ্ডল এবং হাত-পা মারাত্মকভাবে ফুলে যায় এবং পেটের ব্যথা তীব্রতর হতে থাকে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় গত ১১ এপ্রিল তাকে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগে ভর্তি করা হয় (রেজিঃ নং- আর ০১৯৩৩০)। সেখানে ইউরোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডাঃ এস এম রমিজ আহমেদের অধীনে চিকিৎসাধীন থাকার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে যে, ভুয়া ডাক্তারের দেওয়া উচ্চমাত্রার ওই ব্যথানাশক ওষুধের বিষক্রিয়াতেই তন্ময়ের তীব্র কিডনি বিকলতা (Acute Kidney Injury) এবং স্ক্রোটাল সোয়েলিং (Scrotal Swelling) হয়েছে। হাসপাতালে টানা ১৮ দিন (১১ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল) জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকে নিবিড় চিকিৎসার পর অলৌকিকভাবে প্রাণ ফিরে পান ওই যুবক। সুস্থ হয়ে ভুয়া চিকিৎসার জালিয়াতি ধরতে তন্ময় মে মাসে নলতা বাজারের সেই চেম্বারে গেলে নিজের অপরাধ স্বীকার করা তো দূরের কথা, ভুয়া ডাক্তার ইয়াসিন আলী পলাশ এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গরা ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগী রোগীকে বেদম লাঞ্ছিত করে এবং চেম্বার থেকে বের করে দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। নিরুপায় হয়ে তন্ময় সরদার সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অফিশিয়াল ছাড়পত্র ও প্রেসক্রিপশনসহ কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যার প্রেক্ষিতে সোমবার এই কুখ্যাত প্রতারককে হাতেনাতে ধরে সাজা শোনান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদিকে প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে এলাকাবাসী সাধুবাদ জানালেও সাজা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি— যে প্রতারক চিকিৎসক সেজে দীর্ঘদিন ধরে শত শত মানুষের জীবন বিপন্ন করছে, অন্য চিকিৎসকের নিবন্ধন চুরি করছে এবং যার কারণে একজন যুবকের কিডনি নষ্ট হলো, তাকে মাত্র ৬ মাসের সাজা দেওয়া মোটেও পর্যাপ্ত নয়।

Read More »

কালিগঞ্জে ১৯ বিঘা মৎস্য ঘের জবরদখলের হুমকি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের তেলীখালী মৌজায় প্রায় ১৯ বিঘা (৬.৩০ একর) আয়তনের একটি মৎস্য ঘেরের মালিকানা ও দখল নিয়ে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। একদিকে বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমি জবরদখলের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান মালিকেরা; অন্যদিকে একই জমি নিয়ে একাধিক দেওয়ানী মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এর মিউটেশন (নামজারি) কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ভূমি প্রশাসন ও আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগীসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। রোববার (১৪ জুন) দুপুরে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার তেলীখালী মৌজার জে.এল নং-১৩৯, সিএস খতিয়ান নং-১৪২, এসএ খতিয়ান নং-৫২৭, এসএ দাগ নং-৬৪৭, বিএস খতিয়ান নং-৭৮৯, ৭২৫, ৭৯৬ ও ১৪৮০ এবং বিআরএস দাগ নং-১৩৬৫-এর আওতাধীন মোট ৭.৯২ একর জমির মধ্যে ২০২২ সালে বৈধভাবে ৬.৩ একর জমি ক্রয় করেন মোছাঃ সালমা বেগম, মোঃ আবু জাফর গাজী, গোলাম রব্বানী, মোঃ মোহর আলী গাজী ও মোঃ আসাদুর রহমান। ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা জমি ক্রয়ের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে মৎস্য চাষাবাদ ও ভোগদখলে রয়েছেন। তবে সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী মহল কথিত সৃজনশীল (ভুয়া) কাগজপত্র তৈরি করে, ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এই বিশাল মৎস্য ঘেরটি জবরদখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অভিযোগে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, পীর গাজন গ্রামের মৃত সোলায়মান গাজীর ছেলে ও কার্টুনিয়া রাজবাড়ী ডিগ্রি কলেজের দুর্নীতির দায়ে বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ আব্দুল ওহাব গং এই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের বৈধ সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিকেরা। এদিকে একই জমি নিয়ে চলমান আইনি বিরোধের বিষয়টি সামনে এনে কালিগঞ্জ উপজেলার সাতহালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. গোলাম রব্বানী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। আবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর দেওয়ানী মামলা নং-৩৪৪/২২-এর ডিক্রিপ্রাপ্ত হয়ে তিনি তপশিলবর্ণিত সম্পত্তি ভোগদখল করছেন। তবে ওই ডিক্রির বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ মো. আব্দুল ওহাব গাজী ২০২৩ সালের ২২ মে কালিগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা (নং-১৬৪/২৩) দায়ের করেন। পরবর্তীতে রহিমা খাতুন নামের আরেকজন একই ডিক্রির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে ডিক্রি রদের মামলা (নং-৩৬৪/২৪) দায়ের করেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। “একই জমি নিয়ে আদালতে দুটি মামলা চলমান। এই অবস্থায় যদি সংশ্লিষ্ট জমির ক্রয়-বিক্রয়, হস্তান্তর বা মিউটেশন (নামজারি) কার্যক্রম সম্পন্ন হয়, তবে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা আরও প্রকট হবে। তাই আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত নামজারি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার জন্য আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাচ্ছি।” জানা গেছে, নামজারি ও হস্তান্তর স্থগিতের এই আবেদনপত্রের অনুলিপি ইতিমিধ্যেই কালিগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় এবং ১১নং রতনপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে মামলার জটিলতা ও বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপরই পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নির্ভর করবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই জমি বিরোধের কারণে এলাকায় এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ এড়াতে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত আইনি নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি।  

Read More »

কালিগঞ্জে সরকারি রাস্তায় হরিলুট: ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ

সরকারি অর্থায়নে গ্রামীণ রাস্তা উন্নয়ন কাজের নামে চলছে চরম নয়ছয় আর অনিয়মের মহোৎসব। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ০২নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ০৬নং ওয়ার্ডের শ্রীরামপুর গ্রামে একটি ইট সোলিং রাস্তা নির্মাণে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে উঠেছে ব্যাপক দুর্নীতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ। এলাকাবাসীর তীব্র আপত্তি ও মৌখিক বাধা উপেক্ষা করে গায়ের জোরে নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে আজ (০২ জুন, ২০২৬) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী। লিখিত অভিযোগের অনুলিপিটি উপজেলা প্রকৌশলীকে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের সরকারি অর্থায়নে শ্রীরামপুর গ্রামের জনৈক মহাদেব মাস্টারের বাড়ি হতে অনন্ত কর্মকারের পুকুর পাড় পর্যন্ত ইট সোলিং রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পটির ঠিকাদারি (কন্ট্রাক্টর) দায়িত্বে রয়েছেন মোঃ রানা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি শিডিউল বা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রাস্তা নির্মাণে একেবারেই ৩ নম্বর ও নিম্নমানের ভাঙাচোরা ইট এবং গুণগত মানহীন বালি ব্যবহার করা হচ্ছে। ঠিকাদারের এমন হরিলুট ও মনগড়া কর্মকাণ্ডে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। শ্রীরামপুর গ্রামের বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা নিম্নমানের ও দুই নম্বরি ইট হাতে নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। লিখিত অভিযোগকারী শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আকবার হোসেন (পিতা: মোঃ মন্তেজ আলী) জানান, “ঠিকাদার যেভাবে ২ নম্বর ও ৩ নম্বর গ্রেডের নিম্নমানের ইট ও বালু দিয়ে রাস্তা পাকা করছেন, তাতে এই রাস্তা কয়েক মাসও টিকবে না। আমরা এলাকাবাসী দলবদ্ধভাবে ঠিকাদার রানা দাসকে এই জঘন্য কাজ বন্ধ করতে এবং ভালো সামগ্রী ব্যবহার করতে মৌখিকভাবে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের কোনো কথাই তোয়াক্কা করেননি। উল্টো ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিম্নমানের কাজ অব্যাহত রেখেছেন।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমাদানকৃত অভিযোগপত্রে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা বিষয়টি আমলে নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ‘উপজেলা প্রকৌশলী, কালিগঞ্জ’-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত নির্দেশ দিয়েছেন। এলাকাবাসীর জোর দাবি, সরকারি অর্থের অপচয় রোধে এবং টেকসই রাস্তা নির্মাণ নিশ্চিত করতে যেন কোনো প্রকার আপস না করা হয়। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করা এবং এই দুর্নীতির সাথে জড়িত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

Read More »

কালিগঞ্জে সংখ্যালঘু পরিবারের মৎস্য ঘের জবরদখল-থানায় অভিযোগ

আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও বিচারাধীন মামলা তোয়াক্কা না করেই সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে এক সংখ্যালঘু পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘের জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কুলিয়া দুর্গাপুর মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করে মাছ লুটে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই ঘটনায় উপজেলার ঘোজাডাঙ্গা গ্রামের মৃত সন্তোষ কুমার বৈদ্যের পুত্র উৎপল বৈদ্য (৪৮) বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে ও সরেজমিনে আজ ২ জুন মঙ্গলবার জানা যায়, উপজেলার কুলিয়া দুর্গাপুর মৌজার এসএ খতিয়ান নং-২৬৮ ও ২৬৯ এবং দাগ নং-১৬০ ও ১৬৮-এর অন্তর্ভুক্ত ১.২১ একর পৈত্রিক সম্পত্তি গত ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে উৎপল বৈদ্যের পরিবার শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে ধান ও মৎস্য চাষ করে আসছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এই সম্পত্তি জবরদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরার যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে দেওয়ানি মামলা (নং-২৮/২৫) এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার মামলা উল্লেখযোগ্য। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনেও জমির ওপর তাদের বৈধ অবস্থানের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ মে ২০২৬ তারিখ ভোর আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে অভিযুক্ত আব্দুর রহিম (৫০), আকবর আলী (৫৫), আব্দুল্লাহ (৫০), ইব্রাহিম (২৪), ধ্রুব বৈদ্য (৫৫), সমিরন বৈদ্য (৩৫) ও শুকদেব মন্ডল (৫৫) সহ একদল সশস্ত্র ব্যক্তি আকস্মিকভাবে মৎস্য ঘেরে প্রবেশ করে। তারা জোরপূর্বক ঘের থেকে আনুমানিক ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ ধরে নিয়ে যায় এবং ঘেরের ভেড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করে। এ সময় উৎপল বৈদ্য ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা ধারালো দা, কুড়াল ও শাবল নিয়ে তাদের দিকে তেড়ে আসে এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। জীবন বাঁচাতে ভুক্তভোগীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বর্তমানে অভিযুক্তরা জমি ও ঘের দখলের কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য তাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনগুলো বন্ধ থাকায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। “অভিযোগটি আমরা হাতে পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিনের এই জমি সংক্রান্ত বিরোধের একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। দ্রুত আইনি পদক্ষেপ না নিলে এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে।

Read More »

কালিগঞ্জে সাপের কামড়ে গৃহবধুর মৃত্যু

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিষধর সাপের কামড়ে কল্পনা রানী মল্লিক (৫২) নামে এক গৃহিনীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। গত রাতে উপজেলার দক্ষিণশ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীকলা গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।

Read More »

ঈদ উপলক্ষে কালিগঞ্জ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের বোনাস বিতরণ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন-৯৫০ এর উদ্যোগে প্রায় ২ হাজার ৬ শত শ্রমিকের মাঝে ঈদ বোনাস বিতরণ করা হয়েছে। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রবিবার (২৪ মে ২০২৬) দুপুরে শ্রমিক ইউনিয়নের নিজস্ব হলরুমে এ বোনাস বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে কালিগঞ্জ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুমন হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের সঞ্চালনায় শ্রমিকদের হাতে ঈদ বোনাস তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন সরদার, সাতক্ষীরা জেলা বাস-মিনিবাস সমিতির সাবেক আঞ্চলিক কর্মকর্তা শরীফ আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সেলিম আহমেদ, জেলা বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ বাকী,প্রবাসী বন্ধু মহল ও একতা গ্রুপের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন সহ শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিন বাবু, সহ-সভাপতি কবিরুল ইসলাম ও মহাতাপ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম, অফিস সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আজমির হোসেন, সড়ক সম্পাদক আকরাম হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য আকরাম হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, সাদ্দাম ও শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবহন শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। সারা বছর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। ঈদের আনন্দ শ্রমিকদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে শ্রমিক ইউনিয়নের এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা সংগঠনের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও শ্রমিকদের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। অনুষ্ঠান শেষে শ্রমিকদের মাঝে ঈদ বোনাস বিতরণ করা হয় এবং সকলের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

Read More »

কালিগঞ্জে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম, ইউএনও তদন্তের আশ্বাস দিলেন

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সরকারের দেওয়া দুস্থ ও অসহায় মানুষের ভিজিএফ (VGF) খাদ্যশস্য (চাল) বিতরণে চরম অনিয়ম ও চুরির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক উপকারভোগীর ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও, সেখানে অসহায় মানুষদের দেওয়া হচ্ছে সাড়ে ৮ থেকে ৯ কেজি চাল। প্রকাশ্যেই গরিবের মুখের গ্রাস কেটে নেওয়ার এই উৎসবে মেতেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। আজ ২৪ মে (রবিবার) সকালে ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে মোট ৭৯৪ জন উপকারভোগীর মাঝে ৭,৯৪০ কেজি চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু শুরু থেকেই চলে ওজনে কম দেওয়ার মহোৎসব। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ৭৯৪ জন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১০ কেজি করে তাদের মোট ৭,৯৪০ কেজি চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু ভুক্তভোগীরা গড়ে সাড়ে ৮ কেজি করে চাল পাচ্ছেন। সেই হিসাবে ৭৯৪ জন উপকারভোগী চাল পাচ্ছেন মাত্র ৬,৭৪৯ কেজি। অর্থাৎ, উপকারভোগীদের বরাদ্দ থেকে এক দিনেই কেটে রাখা হচ্ছে ১,১৯১ কেজি চাল। সরকারের বর্তমান চাল ক্রয়ের বাজারমূল্য প্রতি কেজি ৪৯ টাকা হিসেবে, মাত্র এক বেলাতেই অসহায় গরিব মানুষের প্রায় ৫৮,৩৫৯ (আটান্ন হাজার তিনশত ঊনষাট) টাকার চাল সরাসরি আত্মসাৎ করা হচ্ছে।ডিজিটাল বাংলাদেশে যখন ডিজিটাল স্কেলে ওজন মাপার নিয়ম, তখন ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে চাল মাপা হচ্ছে বালতি দিয়ে! ওজনে কম দেওয়ার অভিনব এই কারসাজি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। নন্দীকাটি গ্রামের উপকারভোগী রাবেয়া খাতুন চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: “ওজনে যে কম দিচ্ছে, সেটা তো আমরা সাধারণ মানুষ বুঝি না। আমাদের বালতি মেপে চাল দিচ্ছে, আমরা অসহায় মানুষ তা নিয়েই বাড়ি চলে যাচ্ছি। কিন্তু পরে মেপে দেখি চাল অনেক কম!” ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান একেক সময় একেক অদ্ভুত যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম ফারুকের দাবি, বালতি দিয়ে মাপার কারণে নাকি সামান্য এদিক-ওদিক হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা বালতি মেপে চাল দিচ্ছি, দুই-একশ গ্রাম কম হতে পারে।” ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করে নিয়েছেন, তবে দোষ চাপিয়েছেন চাল পরিবহন ও বস্তার ওপর। তার ভাষ্য “আমরা সাড়ে ৯ কেজি করে চাল দিচ্ছি। ১০ কেজি করে দেওয়ার কথা থাকলেও দূর থেকে চাল আনতে গিয়ে এবং বস্তায় কম থাকার কারণে আমরা ৫০০ গ্রাম করে কম দিচ্ছি।” জনপ্রতিনিধিদের এমন প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, সরকারি নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে গরিবের চাল কেটে রাখাটা সেখানে একটি নিয়মিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। সরকারি চাল বিতরণের সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের নিয়ম থাকলেও ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে তা কেবলই খাতা-কলমে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোঃ জুয়েল হোসেনের ভূমিকা নিয়ে চরম প্রশ্ন উঠেছে। নিজের ব্যর্থতা ও দায়িত্বহীনতা স্বীকার করে তিনি বলেন “আমি ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছানোর আগেই তারা চাল বিতরণের কাজ শুরু করে দিয়েছে। তাই এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না।” সচেতন মহলের প্রশ্ন, ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে কীভাবে সরকারি চাল বিতরণ শুরু হলো? তিনি পৌঁছানোর আগেই কেন বিতরণ শুরু হলো, আর চাল চুরির এই মহোৎসবে তিনি কেন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিজিএফ চাল বিতরণে এমন নজিরবিহীন অনিয়ম ও চুরির বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিলন সাহাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ইউএনও বলেন “এই মাত্র আপনার (সাংবাদিক) কাছ থেকে বিষয়টি শুনলাম। চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা এখনই খোঁজ নিয়ে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।” পবিত্র ঈদের মুখে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচীকে এভাবে কলঙ্কিত করার পেছনে জড়িত ধলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মেম্বার এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন ট্যাগ অফিসারের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কালিগঞ্জের সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ ও সুশীল সমাজ।

Read More »

কালিগঞ্জ এলজিইডিতে ‘ঘুষ উৎসব’: সিসিটিভি গায়েব করেও শেষ রক্ষা হলো না হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজের

অফিসের ডেস্কে বসে প্রকাশ্য দিবালোকে গুনে গুনে ঘুষ গ্রহণ। প্রমাণ মুছতে সরকারি অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা গায়েব। এমনকি নারী কেলেঙ্কারির মতো গুরুতর অভিযোগ। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা

Read More »