কালিগঞ্জে সরকারি রাস্তায় হরিলুট: ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ

সরকারি অর্থায়নে গ্রামীণ রাস্তা উন্নয়ন কাজের নামে চলছে চরম নয়ছয় আর অনিয়মের মহোৎসব। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ০২নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ০৬নং ওয়ার্ডের শ্রীরামপুর গ্রামে একটি ইট সোলিং রাস্তা নির্মাণে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে উঠেছে ব্যাপক দুর্নীতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ। এলাকাবাসীর তীব্র আপত্তি ও মৌখিক বাধা উপেক্ষা করে গায়ের জোরে নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে আজ (০২ জুন, ২০২৬) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী। লিখিত অভিযোগের অনুলিপিটি উপজেলা প্রকৌশলীকে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের সরকারি অর্থায়নে শ্রীরামপুর গ্রামের জনৈক মহাদেব মাস্টারের বাড়ি হতে অনন্ত কর্মকারের পুকুর পাড় পর্যন্ত ইট সোলিং রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পটির ঠিকাদারি (কন্ট্রাক্টর) দায়িত্বে রয়েছেন মোঃ রানা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি শিডিউল বা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রাস্তা নির্মাণে একেবারেই ৩ নম্বর ও নিম্নমানের ভাঙাচোরা ইট এবং গুণগত মানহীন বালি ব্যবহার করা হচ্ছে। ঠিকাদারের এমন হরিলুট ও মনগড়া কর্মকাণ্ডে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। শ্রীরামপুর গ্রামের বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা নিম্নমানের ও দুই নম্বরি ইট হাতে নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। লিখিত অভিযোগকারী শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আকবার হোসেন (পিতা: মোঃ মন্তেজ আলী) জানান, “ঠিকাদার যেভাবে ২ নম্বর ও ৩ নম্বর গ্রেডের নিম্নমানের ইট ও বালু দিয়ে রাস্তা পাকা করছেন, তাতে এই রাস্তা কয়েক মাসও টিকবে না। আমরা এলাকাবাসী দলবদ্ধভাবে ঠিকাদার রানা দাসকে এই জঘন্য কাজ বন্ধ করতে এবং ভালো সামগ্রী ব্যবহার করতে মৌখিকভাবে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের কোনো কথাই তোয়াক্কা করেননি। উল্টো ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিম্নমানের কাজ অব্যাহত রেখেছেন।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমাদানকৃত অভিযোগপত্রে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা বিষয়টি আমলে নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ‘উপজেলা প্রকৌশলী, কালিগঞ্জ’-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত নির্দেশ দিয়েছেন। এলাকাবাসীর জোর দাবি, সরকারি অর্থের অপচয় রোধে এবং টেকসই রাস্তা নির্মাণ নিশ্চিত করতে যেন কোনো প্রকার আপস না করা হয়। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করা এবং এই দুর্নীতির সাথে জড়িত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

Read More »

কালিগঞ্জে সংখ্যালঘু পরিবারের মৎস্য ঘের জবরদখল-থানায় অভিযোগ

আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও বিচারাধীন মামলা তোয়াক্কা না করেই সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে এক সংখ্যালঘু পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘের জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কুলিয়া দুর্গাপুর মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করে মাছ লুটে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই ঘটনায় উপজেলার ঘোজাডাঙ্গা গ্রামের মৃত সন্তোষ কুমার বৈদ্যের পুত্র উৎপল বৈদ্য (৪৮) বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে ও সরেজমিনে আজ ২ জুন মঙ্গলবার জানা যায়, উপজেলার কুলিয়া দুর্গাপুর মৌজার এসএ খতিয়ান নং-২৬৮ ও ২৬৯ এবং দাগ নং-১৬০ ও ১৬৮-এর অন্তর্ভুক্ত ১.২১ একর পৈত্রিক সম্পত্তি গত ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে উৎপল বৈদ্যের পরিবার শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে ধান ও মৎস্য চাষ করে আসছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এই সম্পত্তি জবরদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরার যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে দেওয়ানি মামলা (নং-২৮/২৫) এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার মামলা উল্লেখযোগ্য। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনেও জমির ওপর তাদের বৈধ অবস্থানের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ মে ২০২৬ তারিখ ভোর আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে অভিযুক্ত আব্দুর রহিম (৫০), আকবর আলী (৫৫), আব্দুল্লাহ (৫০), ইব্রাহিম (২৪), ধ্রুব বৈদ্য (৫৫), সমিরন বৈদ্য (৩৫) ও শুকদেব মন্ডল (৫৫) সহ একদল সশস্ত্র ব্যক্তি আকস্মিকভাবে মৎস্য ঘেরে প্রবেশ করে। তারা জোরপূর্বক ঘের থেকে আনুমানিক ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ ধরে নিয়ে যায় এবং ঘেরের ভেড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করে। এ সময় উৎপল বৈদ্য ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা ধারালো দা, কুড়াল ও শাবল নিয়ে তাদের দিকে তেড়ে আসে এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। জীবন বাঁচাতে ভুক্তভোগীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বর্তমানে অভিযুক্তরা জমি ও ঘের দখলের কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য তাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনগুলো বন্ধ থাকায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। “অভিযোগটি আমরা হাতে পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিনের এই জমি সংক্রান্ত বিরোধের একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। দ্রুত আইনি পদক্ষেপ না নিলে এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে।

Read More »

কালিগঞ্জে সাপের কামড়ে গৃহবধুর মৃত্যু

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিষধর সাপের কামড়ে কল্পনা রানী মল্লিক (৫২) নামে এক গৃহিনীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। গত রাতে উপজেলার দক্ষিণশ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীকলা গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।

Read More »

ঈদ উপলক্ষে কালিগঞ্জ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের বোনাস বিতরণ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন-৯৫০ এর উদ্যোগে প্রায় ২ হাজার ৬ শত শ্রমিকের মাঝে ঈদ বোনাস বিতরণ করা হয়েছে। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রবিবার (২৪ মে ২০২৬) দুপুরে শ্রমিক ইউনিয়নের নিজস্ব হলরুমে এ বোনাস বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে কালিগঞ্জ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুমন হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের সঞ্চালনায় শ্রমিকদের হাতে ঈদ বোনাস তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন সরদার, সাতক্ষীরা জেলা বাস-মিনিবাস সমিতির সাবেক আঞ্চলিক কর্মকর্তা শরীফ আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সেলিম আহমেদ, জেলা বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ বাকী,প্রবাসী বন্ধু মহল ও একতা গ্রুপের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন সহ শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিন বাবু, সহ-সভাপতি কবিরুল ইসলাম ও মহাতাপ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম, অফিস সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আজমির হোসেন, সড়ক সম্পাদক আকরাম হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য আকরাম হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, সাদ্দাম ও শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবহন শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। সারা বছর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। ঈদের আনন্দ শ্রমিকদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে শ্রমিক ইউনিয়নের এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা সংগঠনের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও শ্রমিকদের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। অনুষ্ঠান শেষে শ্রমিকদের মাঝে ঈদ বোনাস বিতরণ করা হয় এবং সকলের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

Read More »

কালিগঞ্জে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম, ইউএনও তদন্তের আশ্বাস দিলেন

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সরকারের দেওয়া দুস্থ ও অসহায় মানুষের ভিজিএফ (VGF) খাদ্যশস্য (চাল) বিতরণে চরম অনিয়ম ও চুরির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক উপকারভোগীর ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও, সেখানে অসহায় মানুষদের দেওয়া হচ্ছে সাড়ে ৮ থেকে ৯ কেজি চাল। প্রকাশ্যেই গরিবের মুখের গ্রাস কেটে নেওয়ার এই উৎসবে মেতেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। আজ ২৪ মে (রবিবার) সকালে ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে মোট ৭৯৪ জন উপকারভোগীর মাঝে ৭,৯৪০ কেজি চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু শুরু থেকেই চলে ওজনে কম দেওয়ার মহোৎসব। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ৭৯৪ জন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১০ কেজি করে তাদের মোট ৭,৯৪০ কেজি চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু ভুক্তভোগীরা গড়ে সাড়ে ৮ কেজি করে চাল পাচ্ছেন। সেই হিসাবে ৭৯৪ জন উপকারভোগী চাল পাচ্ছেন মাত্র ৬,৭৪৯ কেজি। অর্থাৎ, উপকারভোগীদের বরাদ্দ থেকে এক দিনেই কেটে রাখা হচ্ছে ১,১৯১ কেজি চাল। সরকারের বর্তমান চাল ক্রয়ের বাজারমূল্য প্রতি কেজি ৪৯ টাকা হিসেবে, মাত্র এক বেলাতেই অসহায় গরিব মানুষের প্রায় ৫৮,৩৫৯ (আটান্ন হাজার তিনশত ঊনষাট) টাকার চাল সরাসরি আত্মসাৎ করা হচ্ছে।ডিজিটাল বাংলাদেশে যখন ডিজিটাল স্কেলে ওজন মাপার নিয়ম, তখন ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে চাল মাপা হচ্ছে বালতি দিয়ে! ওজনে কম দেওয়ার অভিনব এই কারসাজি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। নন্দীকাটি গ্রামের উপকারভোগী রাবেয়া খাতুন চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: “ওজনে যে কম দিচ্ছে, সেটা তো আমরা সাধারণ মানুষ বুঝি না। আমাদের বালতি মেপে চাল দিচ্ছে, আমরা অসহায় মানুষ তা নিয়েই বাড়ি চলে যাচ্ছি। কিন্তু পরে মেপে দেখি চাল অনেক কম!” ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান একেক সময় একেক অদ্ভুত যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম ফারুকের দাবি, বালতি দিয়ে মাপার কারণে নাকি সামান্য এদিক-ওদিক হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা বালতি মেপে চাল দিচ্ছি, দুই-একশ গ্রাম কম হতে পারে।” ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করে নিয়েছেন, তবে দোষ চাপিয়েছেন চাল পরিবহন ও বস্তার ওপর। তার ভাষ্য “আমরা সাড়ে ৯ কেজি করে চাল দিচ্ছি। ১০ কেজি করে দেওয়ার কথা থাকলেও দূর থেকে চাল আনতে গিয়ে এবং বস্তায় কম থাকার কারণে আমরা ৫০০ গ্রাম করে কম দিচ্ছি।” জনপ্রতিনিধিদের এমন প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, সরকারি নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে গরিবের চাল কেটে রাখাটা সেখানে একটি নিয়মিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। সরকারি চাল বিতরণের সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের নিয়ম থাকলেও ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে তা কেবলই খাতা-কলমে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোঃ জুয়েল হোসেনের ভূমিকা নিয়ে চরম প্রশ্ন উঠেছে। নিজের ব্যর্থতা ও দায়িত্বহীনতা স্বীকার করে তিনি বলেন “আমি ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছানোর আগেই তারা চাল বিতরণের কাজ শুরু করে দিয়েছে। তাই এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না।” সচেতন মহলের প্রশ্ন, ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে কীভাবে সরকারি চাল বিতরণ শুরু হলো? তিনি পৌঁছানোর আগেই কেন বিতরণ শুরু হলো, আর চাল চুরির এই মহোৎসবে তিনি কেন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিজিএফ চাল বিতরণে এমন নজিরবিহীন অনিয়ম ও চুরির বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিলন সাহাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ইউএনও বলেন “এই মাত্র আপনার (সাংবাদিক) কাছ থেকে বিষয়টি শুনলাম। চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা এখনই খোঁজ নিয়ে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।” পবিত্র ঈদের মুখে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচীকে এভাবে কলঙ্কিত করার পেছনে জড়িত ধলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মেম্বার এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন ট্যাগ অফিসারের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কালিগঞ্জের সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ ও সুশীল সমাজ।

Read More »

কালিগঞ্জ এলজিইডিতে ‘ঘুষ উৎসব’: সিসিটিভি গায়েব করেও শেষ রক্ষা হলো না হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজের

অফিসের ডেস্কে বসে প্রকাশ্য দিবালোকে গুনে গুনে ঘুষ গ্রহণ। প্রমাণ মুছতে সরকারি অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা গায়েব। এমনকি নারী কেলেঙ্কারির মতো গুরুতর অভিযোগ। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা

Read More »

কালিগঞ্জে অবৈধ ক্লিনিকে মোবাইল কোর্ট, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দুইটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মঈনুল হাসান খান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ডালিয়া আক্তার সাথীর যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে কালিগঞ্জ সার্জিক্যাল ক্লিনিককে ১৫ হাজার টাকা এবং ঝর্ণা ক্লিনিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠান দুটির লাইসেন্সের মেয়াদ ২০১৯ সালে শেষ হয়ে গেলেও তা নবায়ন করা হয়নি। এছাড়া অভিযানের সময় কোনো ডিউটি ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন না। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১০ বেডের অনুমোদনের বিপরীতে একটি ক্লিনিকে তিনজন চিকিৎসক ও ছয়জন প্রশিক্ষিত নার্স থাকার কথা থাকলেও অভিযানের সময় কাউকেই উপস্থিত পাওয়া যায়নি। এছাড়া সি ক্যাটাগরির ল্যাব থাকার কথা থাকলেও সেখানে বি ক্যাটাগরির যন্ত্রপাতি পাওয়া যায়। অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) পরিবেশও ছিল অত্যন্ত নাজুক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলাজুড়ে বছরের পর বছর ধরে চিকিৎসা সেবার নামে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রমরমা ব্যবসা চলছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত নার্স নেই। আয়া ও ওয়ার্ডবয়দের দিয়েই রোগীর সেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কালিগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে ১৬টি ক্লিনিক ও ১৭টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। তবে এর অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই নীতিমালা অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু ক্লিনিকে চিকিৎসক ছাড়াই অপারেশন করা হয়। পাশাপাশি দালাল ও গ্রাম্য ডাক্তারদের মাধ্যমে কমিশনের ভিত্তিতে রোগী সংগ্রহ করা হয় এবং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ডালিয়া আক্তার সাথী বলেন, কালিগঞ্জ হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে প্রশাসন কাজ করছে। চিকিৎসক ছাড়া অপারেশনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আমাদের নজরে রয়েছে। জনগণের সহযোগিতা পেলে এসব অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে হাসপাতাল এলাকায় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা দুপুর ১টার আগে প্রবেশ করতে পারবেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকজন ক্লিনিক মালিক নামসর্বস্ব কিছু পত্রিকার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এদিকে সচেতন মহল অবৈধ ও মানহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

Read More »

কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ-এ মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা ও সাধারণ সভা বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার, সংসদ সদস্য, সাতক্ষীরা-৩ আসন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও মাদকমুক্ত কালিগঞ্জ গড়তে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। রমজানকে সামনে রেখে বাজার মনিটরিং জোরদার, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। তিনি আরও বলেন, মাদক ও চোরাচালান দমন, অনিয়ন্ত্রিত ডাম্পার ও মাটি বহনকারী ট্রলি চলাচল বন্ধ, রাস্তার পাশে ঝুঁকিপূর্ণ ও শুকনো গাছ অপসারণ, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ এবং হাসপাতাল ও সড়ক-সংলগ্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা নিজেরা দুর্নীতি করবো না, অন্যকেও করতে দেবো না। নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।” তিনি সকলকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকল দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। উপজেলার সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ এবাদুল ইসলাম, সাবেক সদস্য সচিব ডা. শফিকুল ইসলাম বাবু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুর রউফ, বিভিন্ন দপ্তরের অফিসার বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, জাতীয় সংবাদিক সংস্থার সভাপতি এম হাফিজুর রহমান শিমুল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুর রউফ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

Read More »

কালিগঞ্জে ভোটের অঙ্কে বিএনপির সংকট

সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফল শুধু একটি হার নয়-এটি একটি কঠোর সতর্কবার্তা। কালিগঞ্জের ভোটের অঙ্ক নির্মমভাবে বলে দিচ্ছে, প্রতিপক্ষের চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল নিজেদের ভেতরের বিভাজন। দলীয় প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীনের প্রাপ্ত ৩৩,৬৮৭ ভোটের বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী ডা. শহিদুল আলমের ৬৫,৩৭২ ভোট প্রমাণ করে-তৃণমূলের আস্থা ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের মধ্যে ফাঁক কতটা গভীর। ঐক্যের পরিবর্তে বহিষ্কার, সমন্বয়ের বদলে সংঘাত-এই বাস্তবতা কালিগঞ্জে বিএনপিকে শুধু পরাজিতই করেনি, বরং সাংগঠনিক অস্তিত্বের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তবে স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা যায়, প্রার্থী ঘোষণার আগেই ওয়ার্ড কমিটি গঠন ও সদস্য ফরম বিতরণ নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, পছন্দের কর্মীদের বেশি ফরম দেওয়া, তড়িঘড়ি সদস্য সংগ্রহ এবং অনিয়মের কারণে ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে প্রকাশ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। একই চিত্র উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও দেখা যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে উপজেলা বিএনপি কার্যত দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একাংশ কাজী আলাউদ্দীনের পক্ষে এবং আরেকাংশ ডা. শহিদুল আলমের পক্ষে আলাদা কমিটি গঠন করে। কেন্দ্র যখন কাজী আলাউদ্দীনকে ধানের শীষ প্রতীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়, তখন এই বিভাজন চরম রূপ নেয়। যার ফলে দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকা ডা. শহিদুল আলমকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তাঁর সমর্থকরা টানা ১৭ দিন আন্দোলন ও বিক্ষোভ করেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তা আমলে নেয়নি। ফলে যে দল ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করার কথা ছিল, তারা নিজেরাই মুখোমুখি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় কালিগঞ্জে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায় থেকে ৫০ জনেরও বেশি নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু এই বহিষ্কারাদেশ কতটা স্বচ্ছ বা যৌক্তিক ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারিগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব কাজী আবু সাঈদ সোহেল বলেন, দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় থেকেও তারা বহিষ্কারাদেশ পেয়েছেন, অথচ বহিস্কার সম্পর্কে প্রার্থী নিজেও অবগত ছিলেন না। সাংগঠনিক শৃঙ্খলার নামে এই হঠকারী সিদ্ধান্ত দলের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কালিগঞ্জ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদী নির্বাচনের আগে দক্ষিণশ্রীপুর, মৌতলা, বিষ্ণুপুর, ধলবাড়িয়া, রতনপুর, মথুরেশপুর সহ একাধিক ইউনিয়নে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান। এছাড়া অনেক আওয়ামীলীগ নেতা প্রকাশ্যে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়ায় মানুষ বিরক্ত হয়ে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। বর্তমানে কালিগঞ্জ বিএনপির সামনে তিনটি প্রধান প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে ১। বহিষ্কারাদেশ পুনর্বিবেচনা করে তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব কি না? ২। ভবিষ্যতে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় হাই কমান্ড সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেবে কি না? ৩। বিভাজিত এই সংগঠনকে পুনর্গঠন করে আগামী দিনের লড়াইয়ে টিকে থাকা যাবে কি না? এই প্রশ্নে শেখ আলাউদ্দীন সোহেল কালিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক তিনি বলেন, ২০০৯ সালে পুলিশ নাজিমগঞ্জ থেকে আমাকে তুলে আনে। নির্মম নির্যাতনের পর মামলা দিয়ে আমাকে জেলে পাঠায়। এর পর কালিগঞ্জে কোন মামলা হলে আমাকে বাদ দেয়নি। আমরা নির্যাতনের স্বিকার হয়েও দল ছাড়িনি। আমি ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়েছি, সভা সমাবেশ করেছি তার পরেও দল আমাদের অনেককে বহিস্কার করছে। কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা খায়রুল আলম যিনি মাঠে থেকে মামলা হামলা মোকাবেলা করেছেন তিনি বলেন, দলীয় কোন্দল নয়, এখন সবাইকে একসাথে চলতে হবে। যারা বহিস্কার হয়েছে তারা খোদ বিএনপির নেতা কর্মী। প্রত্যেকের নামে ৫০-৬০ টি মামলা আছে। তারা পালিয়ে থেকেছে। আওয়ামীলীগের নির্যাতনে তারা দিশেহারা। কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের সাবেক আহবায়ক রোকনুজ্জামান বলেন, বহিস্কার দলীয় সিদ্ধান্তে হয়েছে। তবে এই মুহুর্তে দলের একটি সুসংহত কমিটি দেখতে চাই। তানাহলে আগামীতে আন্দোলন সংগ্রামে দলের দৈন্যতা ফুটে উটবে। উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আলম বলেন -“আমরা দলীয় বিভাজন চাই না” এটি প্রতিটি ত্যাগী নেতা কর্মীর মনের কথা। আমরা আগামীতে সবাই মিলে কাজ করতে পারলে দল সুসংগঠিত হবে। কালিগঞ্জে বিএনপি এখন এক চরম বাস্তবতার মুখোমুখি। ভোটের অঙ্ক ইঙ্গিত দিচ্ছে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে এই আসনেই জয় সম্ভব ছিল। কিন্তু কেন্দ্রের শৃঙ্খলা নীতি আর তৃণমূলের জনপ্রিয়তার দাবির মধ্যকার এই ভাঙন যদি দ্রুত জোড়া না লাগে, তবে তা দলটির জন্য কেবল সাংগঠনিক সংকট নয়, বরং অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে।

Read More »

কালিগঞ্জে নির্বাচনোত্তর সহিংসতা: অফিস দখল নিয়ে দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষে আহত ৮

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আটজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা মোজাম মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র বলছে, নির্বাচনী কার্যালয়ের দখল ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই দলের দুইজন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। তবে দলীয় ধানের শীষ প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন ডা. শহিদুল আলম। অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন কাজী আলাউদ্দিন। নির্বাচনে উভয়েই পরাজিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট একটি নির্বাচনী অফিসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয়দের দাবি, শুক্রবার অফিসের চাবি হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর জের ধরে শনিবার বিকেলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ আটজন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা হলেন-আনোয়ারুল ইসলাম আকুল (৫০), আব্দুস সাত্তার (৬২), মীর শাহিনুর রহমান (৪০), শফিউল আজম (৪৮), অজিফা বেগম (২৪), নাজমা বেগম (৩৪), সাদিকুল ইসলাম (২০) ও মরিয়ম খাতুন (২৬)। আহতদের মধ্যে ছয়জনকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য দুজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

Read More »